(12)
গণতন্ত্র পন্থী ভাইদের
উদ্দেশ্যে কিছু উন্মুক্ত প্রশ্ন?
১।
আপনারা কি খেলাফতে বিশ্বাসী?
(যদি হন)
২। খেলাফত কি শুধু নির্দ্রিষ্ট
দেশের জন্য
নাকি সারা বিশ্বের?
৩। এই খেলাফত কি সশস্ত্র যুদ্ধ
ছাড়া কেবল
গণতন্ত্রের মাধ্যমে কায়েম
করা সম্ভব?
৪। কেন
গণতন্ত্রকে কুফরি বা বাতিল
মতবাদ বলা হবে না?
৫। পরামর্শ আর গণতন্ত্র কি একই
বিষয়?
৬। খোলাফায়ে রাশেদীন
কি পরামর্শের
মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন
নাকি গণতন্ত্রের মাধ্যমে?
৭। আপনাদের আমির বা কেন্দ্রীয়
সভাপতি নির্বাচনে কর্মী সমর্থকদের
ভোট
কেন নেওয়া হয় না?
প্রিয় ভাইয়েরা, যে পর্যন্ত
না আপনারা বুঝতে সক্ষম হবেন
গণতন্ত্র
কুফরি বাতিল মতবাদ, এর
দ্বারা খেলাফত
কায়েম সম্ভব না সে পর্যন্ত
আপনাদেরকে পৃথিবীর কেউ
কোন
যুক্তি দিয়ে বুঝাতে পারবে না।
কারণ সব
যুক্তিকেই আপনারা গণতন্ত্রের
মাপকাটি দিয়ে মূল্যায়ন করবেন।
ফলাফল
থাকবে অপরিবর্তনীয়।
আপনাদেরকে দ্বীনি ভাই
হিসেবে একটা অনুরোধ করি।
রাখবেন
আশাকরি।
নিরপেক্ষ মন নিয়ে উপরের
প্রশ্নগুলোর
উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করুন। সত্যের
আরো কাছে চলে যাবেন,
ইনশাআল্লাহ।
(11)
যে কারণে গণতন্ত্রকে কুফরি মতবাদ
বলা হয়ঃ
নিছক মানুষের কোন যুক্তির ভিত্তিতে নয়,
নিম্নে উল্লেখিত কুরআনের আয়াত ও
হাদিসের ভিত্তিতে
গণতন্ত্রকে কুফরি মতবাদ বলা হয়.......
যেমনঃ........
“যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য|”
-সূরাঃ বাকারা, ১৬৫
“আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার
ক্ষমতা নেই।”
- সূরাঃ ইউসুফ :৪০
"আল্লাহ তাআলা সার্বভৌমত্বের
মালিক।"
-সূরাঃ আলে ইমরান: ২৬
“অতএব পবিত্র ও মহান
সে আল্লাহ,যিনি প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর
সার্বভৌম ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি।”
-সূরাঃ ইয়াসিন :৮৩
“তুমি কি জাননা যে, আসমানসমূহ ও
যমীনসমূহের যাবতীয় সার্বভৌমত্ব একমাত্র
আল্লাহ তায়ালার জন্য
নির্দিষ্ট,তিঁনি ছাড়া তোমাদের কোন বন্ধু
নেই, কোন সাহায্যকারী নেই ?”
-সূরা বাকারা, ১০৭
আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ
লোকের কথা মেনে নেন,
তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ
থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু
অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ
অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে -
সুরা আন-আমঃ ১১৬
“যারা আমার অবতীর্ণ করা বিধান
দ্বারা সমাজে বিচার ফায়সালা করেনা ,
তারাই কাফির, …তারাই জালিম, …তারাই
ফাসিক।”
-সূরাঃ মায়েদা ৪৪-৪৭
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন
বিষয়ে ফায়সালা করলে কোন মু’মিন পুরুষ
কিংবা মু’মিন নারীর নিজেদের কোন
ব্যাপারে অন্য কোন সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার
থাকবে না। কেউ আল্লাহ ও তাঁর
রাসূলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই
পথভ্রষ্ট হবে।”
-সূরা আহযাব ৩৬
'তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করনা কেন,
উহার মীমাংসা তো আল্লাহরই নিকট’
-আশ শূরা, ১০
'আল্লাহ আদেশ করেন, তাঁর আদেশ রদ
করবার কেউ নাই এবং তিনি হিসাব
গ্রহণে অতি তৎপর’
-সূরা রা’দ, ৪১
“হুকুম তো আল্লাহ্ তা‘আলারই”
- সূরা আনাম, ৫৭
“তিনি কাউকে নিজ হুকুমে শরীক করেন
না”। -সূরা কাহাফ, ২৬
“এবং কাজ-কর্মে তাদের (দ্বীনের
বিষয়ে প্রজ্ঞাবান) সাথে পরামর্শ কর”
-সূরা আলে ইমরান, ১৫৯
"কিতাব অবতীর্ণ
করেছি যাতে তুমি আল্লাহ যা অবতীর্ণ
করেছেন তদানুয়ায়ী তাদের বিচার
নিষ্পত্তি কর, তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ
না কর এবং তাদের সম্বন্ধে সর্তক হও
যাতে আল্লাহ যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ
করেছেন তারা তার কিছু
হতে তোমাকে বিচ্যুত না করে”
-সূরা মায়িদা ৫ : ৪৯
“তাদের কি এমন কতগুলো ইলাহ (উপাস্য)
আছে যারা তাদের জন্য বিধান
দিয়েছে এমন দ্বীনের, যার অনুমতি আল্লাহ
দেননাই? ফয়সালার (বিচার দিবসের)
ঘোষণা না থাকলে তাদের
বিষয়ে তো সিদ্ধান্ত হয়ে যেত। নিশ্চয়ই
যালিমদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।”
-সূরা আস-শূরা ৪২ : ২১
"আপনি যতই চান অধিকাংশ মানুষ
বিশ্বাসকারী নয়।"
- সুরা ইউসুফঃ ১০৩
জেনে রাখো! সৃষ্টি যার, ক্ষমতা-কর্তৃত্ব,
আইন-বিধান, আদেশ-নিষেধ তার জন্যই
নির্দিষ্ট। মহিমময় আল্লাহই জগতসমূহের
প্রতিপালক। (সূরা আ’রাফ, আয়াত নং ৪৫)
বরং আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট সকল ‘আমর’
বা আদেশ, নির্দেশ, কর্তৃত্ব।
(সূরা রা’দ, আয়াত নং ৩১)
আল্লাহ ছাড়া আর কারও ফয়সালা দেওয়ার
অধিকার নেই।
(সূরা আনআম, আয়াত নং ৫৯)
লোকেরা জিজ্ঞেস করে, শাসন কর্তৃত্বের
ব্যাপারে, আইন-বিধান প্রণয়নের ব্যাপারে,
আদেশ-নির্দেশ দানের ব্যাপারে (তাদের)
আমাদের কোন অধিকার আছে কিনা। বলুন!
আইন-বিধান, শাসন-কর্তৃত্ব, আদেশ-
নির্দেশ নামে যা আছে তার সবই আল্লাহর
জন্য নির্দিষ্ট (এ বিষয়ে তোমাদের কোনই
অধিকার নেই)।
(সূলা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৫৪)।
শাসন -কর্তৃত্বের অধিকার আল্লাহর জন্য
সংরক্ষিত -শুরুতে এবং শেষেও।
(সূরা আর রূম, আয়াত নং ৪)
আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল
ব্যবস্থাপনা পরিচালনা তিনিই করেন।
(সূরা সিজদাহ, আয়াত নং ৫)
রসূল(সাঃ)বললেন,“আমরা এরুপ
ব্যক্তিকে কোন পদে মনোনিত
করি না,যে তার পদ চেয়ে নেয় বা পদের
প্রতি লালায়িত হয়।”(বুখারী)
“যখন তোমাদের ধনী শ্রেণী কৃপণ হবে, যখন
তোমাদের যাবতীয় কাজে কর্তৃত্ব
তোমাদের নারীদের হাতে চলে যাবে, তখন
তোমাদের জন্য পৃথিবীর উপরিভাগের
চেয়ে অভ্যন্তর ভাগ অধিক কল্যাণকর
হবে।” (তিরমিযী)
“হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। যখন নবী করীম
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
নিকট এ সংবাদ পৌঁছলো যে, পারস্যের
জনগণ কিসরার কন্যাকে তাদের বাদশাহ
মনোনীত করেছে, তখন তিনি বললেন,
সে জাতি কখনো সাফল্য অর্জন
করতে পারে না, যে জাতি স্বীয়
কাজকর্মের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বভার একজন
নারীর হাতে সোপর্দ করে।” (বুখারী ও
তিরমিযী)
আবু সাঈদ আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা)
থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
(সা) আমাকে বলেছেনঃ হে আবদুর রহমান
ইবনে সামুরা! নেতৃত্বপ্রার্থী হয়ো না।
কারণ প্রার্থী না হয়ে নেতৃত্ব প্রাপ্ত
হলে তুমি এ ব্যাপারে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
পক্ষান্তরে প্রার্থী হয়ে নেতৃত্ব লাভ
করলে তোমার উপরই যাবতীয় দায়িত্বের
বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে। তুমি কোন
বিষয়ে শপথ করার পর তার
বিপরীতে কল্যাণ লক্ষ্য করলে তখন
যেটা ভালো সেটাই করবে এবং শপথের
কাফ্ফারা আদায় করবে। (বুখারী, মুসলিম)
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ
(সা) বলেছেনঃ অচিরেই তোমরা নেতৃত্ব
লাভের অভিলাষী হবে। (মনে রেখ)
কিয়ামাতের দিন এটা তোমাদের জন্য
লজ্জা ও অনুতাপের কারণ হবে। (বুখারী)
“আল্লাহর শপথ, আমরা এমন কোন লোকের
ওপর এই কাজের দায়িত্ব অর্পণ
করবো না যে এর জন্য প্রার্থী হয়
বা অন্তরে এর আকাংখা পোষণ করে।”
সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম
(10)
গণতন্ত্রের বাইপ্রোডাক্টঃ
গণতন্ত্রপন্থী ভাইরা প্রায়ই
যে কথাটি বলে সেটি হলো-
শুধু ইসলামী রাষ্ট্র হলেই
কিংবা রাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন
চালু করলেই
হবে না। বরং তার
আগে ইসলামী আইন
মানার জন্য ভাল মুসলিম
তৈরি করতে হবে।
বিভিন্ন
সেক্টরে ইসলামপন্থী লোক
সাপ্লাই দিতে হবে।
প্রাইমারি স্কুল
থেকে সচিবালয়, পুলিশ
থেকে সশস্ত্র
বাহিনী সব জায়গায়
আগে ইসলামপন্থী লোক
বসাতে হবে।
তারপর রাষ্ট্রে ইসলামী আইন
চালু
করতে হবে।
মূলত তাদের এই ধরনের চিন্তাটাই
ত্রুটিপূর্ণ। প্রথমত তারা 'খেলাফত'
শব্দটিকে 'ইসলামী রাষ্ট্র'
শব্দটি দ্বারা প্রতিস্থাপিত
করতে চাচ্ছে,
হোক সেটা ইচ্ছায়
কিংবা অনিচ্ছায়।
কেননা, তারা শুধু নির্দ্রিষ্ট
ভৌগলিক
সীমাতেই তাদের
চিন্তা ভাবনাকে সংকুচিত
করে রেখেছে।
যাইহোক, মূল প্রসঙ্গে আসি।
রাষ্ট্রের
বিভিন্ন পর্যায়ের জন্য
ব্যাপকহারে ইসলাম
ভাবাপন্ন লোক তৈরি করার পর
রাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করার
এই ভ্রান্ত
ধারণাটি মূলত গণতন্ত্র নামক
কুফরি মতবাদের একটি বাই
প্রোডাক্ট।
অথচ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ
বলেন,
"যখন আল্লাহর পক্ষ
থেকে সাহায্য ও বিজয়
আসবে তখন দেখবে, লোকজন
দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করছে।"
-সূরাঃ নসর, আয়াতঃ ১-২
সুতরাং, বিজয়ের জন্য
দলে দলে লোকদেরকে ইসলামীকরণ
করার
প্রয়োজন নেই।
বরং বদরী সাহাবীগণের মত
তিনশো তের জন মুজাহিদ
তৈরি করতে হবে,
যাদেরকে আল্লাহ তাঁর
প্রতিশ্রুত সাহায্য
ও বিজয় দান করবেন।
আল্লাহ
আমাদেরকে খেলাফতের গুরুত্ব
বুঝার এবং সঠিক পন্থায়
খেলাফত
কায়েমের চেষ্টা করার
তৌফিক দিন।
আমিন।
(9).https://kaizenseries.wordpress.com/2014/11/09/গণতন্ত্র-কি-পারবে-kaizenseri/
https://kaizenseries.wordpress.com/tps://kaizenseries.wordpress.com/
(9). গণতন্ত্র সেক্যুলারিজমের
জারজ প্রোডাক্ট & গণতন্ত্র
হচ্ছে কুফফারদের খেজুরের
তৈরি মূর্তিঃ
Statement 1 : আধুনিক
পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র
হচ্ছে সেক্যুলারিজমের জারজ
প্রোডাক্ট।
Statement 2 : গণতন্ত্র
হচ্ছে কুফফারদের
'খেজুরের তৈরি মূর্তি'।
গণতন্ত্র সম্পর্কে উপরের
দুটি Statement এর
১মটি Theoretical
এবং ২য়টি Practical..
Justification:
১ নং Statement নিয়ে আগে বলি।
Secularism
শব্দের বঙ্গানুবাদ
করা হয়েছে 'ধর্মনিরপেক্ষতা'
যেটা একটা ডাহা মিথ্যা এবং সূক্ষ্ম
প্রতারণা। প্রকৃতপক্ষে Secularism এর
অর্থ
হওয়া উচিত 'ধর্মহীনতা'। মূলত
Secularism বলতে ২টি Concept
কে বুঝায়-
1. Naturalism & 2.
Rationalism
অর্থাৎ Secularism = Naturalism +
Rationalism.
নাস্তিক্যবাদী চিন্তাধারার
প্রসারের
সাথে সাথে দুটো প্রশ্ন গাঢ়
হতে লাগলো।
প্রথমত, বিশ্বজগত
কিভাবে সৃষ্টি হল??
ধর্মতাত্ত্বিকরা ধর্মগ্রন্থের
আলোকে ব্যাখ্যা দিলো। কিন্তু
নাস্তিক
সেক্যুলাররা তো আর
তা মেনে নিতে পারে না।
তাই
তারা প্রস্তাব করলো Naturalism
মতবাদের।
এই মতবাদের সারকথা হল
স্রষ্টা বলে কিছু
নেই, Nature নিজে নিজেই
পরিপূর্ণ ও
স্বয়ংসম্পূর্ণ।
২য় যে প্রশ্নটি আসলো তা হল
সমাজ
রাষ্ট্রের আইন
কিভাবে তৈরি হবে??
ধার্মিকরা না হয় ধর্মগ্রন্থ
ফলো করে।
নাস্তিকরা কি করবে??
নাস্তিকরা মীমাংসা দিল
যে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তি ও
যুক্তি কাজে লাগিয়ে আইন
তৈরি করবে,
কোন Holy Scripture এর ধার
ধরবে না।
এটাকে বলা হয় Rationalism.
এই Rationalism প্রয়োগ
করে সমাজের আইন
তৈরির কারখানাই হল আধুনিক
পার্লামেন্ট, যেখানে MP দের
হ্যাঁ-না-
সংখ্যাধিক্যই হল আইন তৈরির
প্রক্রিয়া।
কাজেই বুঝা গেল Secularism হল
নাস্তিকতাবাদের জারজ
প্রোডাক্ট, আর
আধুনিক
পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র হল
Secularism এর জারজ প্রোডাক্ট।
২নং Statement টি বেশ
কৌতূহলীদ্দীপক।
জাহেলী যুগে উমার (রাঃ)
একদিন কোথাও
যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর
পূজা অর্চনা করার ইচ্ছে হল। কিন্তু
আশেপাশে কোন মূর্তি পেলেন
না।
অগত্যা খেজুর
দিয়ে মূর্তি তৈরি করলেন।
তারপর অঢেল
ভক্তি শ্রদ্ধা নিয়ে পূজা-
অর্চনা করলেন। কিছুক্ষণ পর
ক্ষুধা লাগলো।
তখন তিনি সেই মূর্তিটিই
ভেঙে খেয়ে ফেললেন!! এটাই
হচ্ছে কুফফারদের খেজুরের
তৈরি মূর্তি,
যখন
ইচ্ছা তারা এটাকে ভক্তি করে,
পূজা করে, নিজেকে নিবেদন
করে আবার
যখন ইচ্ছে হয়, যখন
প্রবৃত্তি তাড়না দেয়,
তখন এটাকে খেয়ে ফেলে!!
এবার আসা যাক গণতন্ত্রের
ব্যাপারে। এ
যমানার কুফফাররা ও তাদের প্রভু
আমেরিকা দেশে দেশে গণতন্ত্রের
ফেরি করে বেড়ায়। এই
গণতন্ত্রকে তারা পূজা করে,
অর্চনা করে।
এমনকি এই গণতন্ত্রের জন্য
তারা যুদ্ধও করে।
আমরা যখন বলি 'আল্লাহ
যেটা দিয়েছেন
সেটাই আইন', তখন ওরা বলে "না,
পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যা দিয়েছে তাই
আইন।"
[{ আল্লাহ বলেন, "আম লাহুম
শুরাকায়ু
শারায়ু লাহুম মিনাদ দ্বীন
মা লাম
ইয়াহযান বিহিল্লাহ" অর্থাৎ
"তাদের
কি এমন কতগুলো শরীক (উপাস্য/
বিধানদাতা)
আছে যারা তাদেরকে এমন
কতগুলো বিধান দিয়েছে যার
নির্দেশ
আল্লাহ দেন নি???"
আমাদের বিধানদাতা আল্লাহ
আর ওদের
বিধানদাতা পার্লামেন্টের
সংখ্যাগরিষ্ঠতা!! }]
কিন্তু যখন দেখা যায় ওদের
ফর্মুলা মেনেই
ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় আসে, যখন
ওদের
পার্লামেন্টের
সংখ্যাগরিষ্ঠতাও
ইসলামী শরীআকে সাপোর্ট
করে, তখন
ওরা তাদের পূজিত
গণতন্ত্রকে খেজুরের
মূর্তির
মতো চিবিয়ে খেয়ে ফেলে!!
তখন
ওরা ওদের ব্যালটের
উপাস্যকে মনে রাখে না,
মনে রাখে না ওদের
সংখ্যাগরিষ্ঠতার
উপাস্যকে!! ঠিক এ ঘটনাই
ঘটেছে আলজেরিয়া ও মিশরে।
এ কারনে আইমান আল
জাওয়াহিরি বলেছেন,
"গণতন্ত্র হল কুফফারদের খেজুরের
তৈরি মূর্তি, যখন
খুশি তারা এটাকে পূজা করে আবার
যখন
খুশি তারা এটাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে!!"
###nk
মানুষ আদতেই আবেগের
ডিব্বা। কেবল লোকলজ্জার
কারণে ইহা লুকাইয়া
রাখিবার চেষ্টা করে। তাই
অনলাইনে আসিয়াই আবেগের
স্রোত প্রবাহিত হইতে দেখি।
আর ইসলামের নামে সে কি
আবেগ!!
অমুক ইসলামের এই ক্ষতি
করিয়াছে তো সেইরকম
আবেগি বাক্য দিয়া আক্রমণ
এবং তাহার কি কি শাস্তি
হইবে ইহা নির্ধারণ করিয়া
শাস্তি প্রয়োগের বিধান
পর্যন্ত দিয়া দেয় এমন কিছু
নাবালক যাহাদের এই বিষয়ে
নুন্যতম জ্ঞান নাই।
ইসলাম একটি জীবনব্যবস্থা
যেইখানে ব্যক্তি নয় বরং
আদর্শের অনুসরণ করা হয়। কোন
জীবনব্যবস্থা হইতে উৎসারিত
রাষ্ট্রব্যবস্থা যেমন কোন একক
ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল নয়
তেমনি কোন রাষ্ট্রব্যবস্থা
একক ব্যক্তির মৃত্যুতে ধ্বংস হয়
না। হয়ত তাহার
উত্তরাধিকারীর দ্বারা আরও
শাণিত হয়।
রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
করিতে গেলে যেমন ক্রমাগত
অন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার উপর
আদর্শিক আঘাত হানিতে হয়
তেমনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা
টিকাইয়া রাখিতে ক্রমাগত
কোন ব্যক্তির কারিশমা নয়
আদর্শের উপর সমগ্র
অনুসারীগোষ্ঠীকে সচেতন,
ঐক্যবদ্ধ আর সক্রিয় রাখিতে হয়।
ব্যক্তির পতন রাষ্ট্রশক্তির
বিন্দুমাত্র ক্ষতি করিতে
পারে না। অথচ আবেগের
আতিশয্যে সমাজ পরিবর্তনের
স্বাভাবিক এবং একমাত্র পথ
হইতে আমরা বহুদুরে চলিয়া
যাই। এইবার ঐ ব্যবস্থার ধারক
কিংবা তাহাদের কোন
অনুসারীর মরণে প্রবল খুশিতে
ডুগডুগি বাজাই আর নিজেদের
চিন্তার দৈন্যতা প্রকাশ করি।
এইভাবে প্রচলিত ভ্রান্ত আর
জাহেলি ব্যবস্থার ভুল তুলিয়া
ধরিয়া শাসকগোষ্ঠীকে
ক্রমাগত আদর্শিক
চ্যালেঞ্জের মুখে নিয়া
গিয়া উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ
করিবার প্রচেষ্টা হইতে দূরে
সরিয়া যাই। শাসনব্যবস্থার
প্রত্যেকটা ভুল কাজে
লাগাইয়া সচেতন আদর্শিক
রাজনীতি শিখিতে না
পারিলে হয়ত দুই একজন কাফির
মারিয়াই খুশি থাকিতে
হইবে। সত্যিকার পরিবর্তন
আসিবে না। কারণ সত্যিকার
পরিবর্তন এই আবেগের
ডিব্বাগণ চাইতেই জানে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন