রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৫

6. খিলাফাত, দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে


আপনারা কষ্টকরে রোদে দারিয়ে থেকে থেকে কাদের
ভোটদিচ্ছেন, আর কাদের দিয়েই
বা দেশ চালানোর জন্যতাদের
সাথে কাজ করছেন???
যারা নাকি আপনাদের
জীবেনেরনিরাপত্ত
া দিতে পারে না আরযারা নাকি আপনাদের
মারার জন্য বাস,ট্রাক এ
আগুনদেয়।???? এটাই কি আপনাদের
গনতন্ত্র?,??? আপনাদেরগনতন্ত্র
মানে কি এমন এক
ব্যবস্থা যেখানে এক
জনলুকিয়ে মারে আর এক জন
প্রকাশ্যে মারে,???!!!কাদের জন্য
কাজ করছেন আপনারা,,????

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৫

5. খিলাফাত, দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে?


(12)
গণতন্ত্র পন্থী ভাইদের
উদ্দেশ্যে কিছু উন্মুক্ত প্রশ্ন?
১।
আপনারা কি খেলাফতে বিশ্বাসী?
(যদি হন)
২। খেলাফত কি শুধু নির্দ্রিষ্ট
দেশের জন্য
নাকি সারা বিশ্বের?
৩। এই খেলাফত কি সশস্ত্র যুদ্ধ
ছাড়া কেবল
গণতন্ত্রের মাধ্যমে কায়েম
করা সম্ভব?
৪। কেন
গণতন্ত্রকে কুফরি বা বাতিল
মতবাদ বলা হবে না?
৫। পরামর্শ আর গণতন্ত্র কি একই
বিষয়?
৬। খোলাফায়ে রাশেদীন
কি পরামর্শের
মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন
নাকি গণতন্ত্রের মাধ্যমে?
৭। আপনাদের আমির বা কেন্দ্রীয়
সভাপতি নির্বাচনে কর্মী সমর্থকদের
ভোট
কেন নেওয়া হয় না?
প্রিয় ভাইয়েরা, যে পর্যন্ত
না আপনারা বুঝতে সক্ষম হবেন
গণতন্ত্র
কুফরি বাতিল মতবাদ, এর
দ্বারা খেলাফত
কায়েম সম্ভব না সে পর্যন্ত
আপনাদেরকে পৃথিবীর কেউ
কোন
যুক্তি দিয়ে বুঝাতে পারবে না।
কারণ সব
যুক্তিকেই আপনারা গণতন্ত্রের
মাপকাটি দিয়ে মূল্যায়ন করবেন।
ফলাফল
থাকবে অপরিবর্তনীয়।
আপনাদেরকে দ্বীনি ভাই
হিসেবে একটা অনুরোধ করি।
রাখবেন
আশাকরি।
নিরপেক্ষ মন নিয়ে উপরের
প্রশ্নগুলোর
উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করুন। সত্যের
আরো কাছে চলে যাবেন,
ইনশাআল্লাহ।


(11)
যে কারণে গণতন্ত্রকে কুফরি মতবাদ
বলা হয়ঃ
নিছক মানুষের কোন যুক্তির ভিত্তিতে নয়,
নিম্নে উল্লেখিত কুরআনের আয়াত ও
হাদিসের ভিত্তিতে
গণতন্ত্রকে কুফরি মতবাদ বলা হয়.......
যেমনঃ........
“যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য|”
-সূরাঃ বাকারা, ১৬৫
“আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার
ক্ষমতা নেই।”
- সূরাঃ ইউসুফ :৪০
"আল্লাহ তাআলা সার্বভৌমত্বের
মালিক।"
-সূরাঃ আলে ইমরান: ২৬
“অতএব পবিত্র ও মহান
সে আল্লাহ,যিনি প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর
সার্বভৌম ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি।”
-সূরাঃ ইয়াসিন :৮৩
“তুমি কি জাননা যে, আসমানসমূহ ও
যমীনসমূহের যাবতীয় সার্বভৌমত্ব একমাত্র
আল্লাহ তায়ালার জন্য
নির্দিষ্ট,তিঁনি ছাড়া তোমাদের কোন বন্ধু
নেই, কোন সাহায্যকারী নেই ?”
-সূরা বাকারা, ১০৭
আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ
লোকের কথা মেনে নেন,
তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ
থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু
অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ
অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে -
সুরা আন-আমঃ ১১৬
“যারা আমার অবতীর্ণ করা বিধান
দ্বারা সমাজে বিচার ফায়সালা করেনা ,
তারাই কাফির, …তারাই জালিম, …তারাই
ফাসিক।”
-সূরাঃ মায়েদা ৪৪-৪৭
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন
বিষয়ে ফায়সালা করলে কোন মু’মিন পুরুষ
কিংবা মু’মিন নারীর নিজেদের কোন
ব্যাপারে অন্য কোন সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার
থাকবে না। কেউ আল্লাহ ও তাঁর
রাসূলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই
পথভ্রষ্ট হবে।”
-সূরা আহযাব ৩৬
'তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করনা কেন,
উহার মীমাংসা তো আল্লাহরই নিকট’
-আশ শূরা, ১০
'আল্লাহ আদেশ করেন, তাঁর আদেশ রদ
করবার কেউ নাই এবং তিনি হিসাব
গ্রহণে অতি তৎপর’
-সূরা রা’দ, ৪১
“হুকুম তো আল্লাহ্ তা‘আলারই”
- সূরা আনাম, ৫৭
“তিনি কাউকে নিজ হুকুমে শরীক করেন
না”। -সূরা কাহাফ, ২৬
“এবং কাজ-কর্মে তাদের (দ্বীনের
বিষয়ে প্রজ্ঞাবান) সাথে পরামর্শ কর”
-সূরা আলে ইমরান, ১৫৯
"কিতাব অবতীর্ণ
করেছি যাতে তুমি আল্লাহ যা অবতীর্ণ
করেছেন তদানুয়ায়ী তাদের বিচার
নিষ্পত্তি কর, তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ
না কর এবং তাদের সম্বন্ধে সর্তক হও
যাতে আল্লাহ যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ
করেছেন তারা তার কিছু
হতে তোমাকে বিচ্যুত না করে”
-সূরা মায়িদা ৫ : ৪৯
“তাদের কি এমন কতগুলো ইলাহ (উপাস্য)
আছে যারা তাদের জন্য বিধান
দিয়েছে এমন দ্বীনের, যার অনুমতি আল্লাহ
দেননাই? ফয়সালার (বিচার দিবসের)
ঘোষণা না থাকলে তাদের
বিষয়ে তো সিদ্ধান্ত হয়ে যেত। নিশ্চয়ই
যালিমদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।”
-সূরা আস-শূরা ৪২ : ২১
"আপনি যতই চান অধিকাংশ মানুষ
বিশ্বাসকারী নয়।"
- সুরা ইউসুফঃ ১০৩
জেনে রাখো! সৃষ্টি যার, ক্ষমতা-কর্তৃত্ব,
আইন-বিধান, আদেশ-নিষেধ তার জন্যই
নির্দিষ্ট। মহিমময় আল্লাহই জগতসমূহের
প্রতিপালক। (সূরা আ’রাফ, আয়াত নং ৪৫)
বরং আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট সকল ‘আমর’
বা আদেশ, নির্দেশ, কর্তৃত্ব।
(সূরা রা’দ, আয়াত নং ৩১)
আল্লাহ ছাড়া আর কারও ফয়সালা দেওয়ার
অধিকার নেই।
(সূরা আনআম, আয়াত নং ৫৯)
লোকেরা জিজ্ঞেস করে, শাসন কর্তৃত্বের
ব্যাপারে, আইন-বিধান প্রণয়নের ব্যাপারে,
আদেশ-নির্দেশ দানের ব্যাপারে (তাদের)
আমাদের কোন অধিকার আছে কিনা। বলুন!
আইন-বিধান, শাসন-কর্তৃত্ব, আদেশ-
নির্দেশ নামে যা আছে তার সবই আল্লাহর
জন্য নির্দিষ্ট (এ বিষয়ে তোমাদের কোনই
অধিকার নেই)।
(সূলা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৫৪)।
শাসন -কর্তৃত্বের অধিকার আল্লাহর জন্য
সংরক্ষিত -শুরুতে এবং শেষেও।
(সূরা আর রূম, আয়াত নং ৪)
আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল
ব্যবস্থাপনা পরিচালনা তিনিই করেন।
(সূরা সিজদাহ, আয়াত নং ৫)
রসূল(সাঃ)বললেন,“আমরা এরুপ
ব্যক্তিকে কোন পদে মনোনিত
করি না,যে তার পদ চেয়ে নেয় বা পদের
প্রতি লালায়িত হয়।”(বুখারী)
“যখন তোমাদের ধনী শ্রেণী কৃপণ হবে, যখন
তোমাদের যাবতীয় কাজে কর্তৃত্ব
তোমাদের নারীদের হাতে চলে যাবে, তখন
তোমাদের জন্য পৃথিবীর উপরিভাগের
চেয়ে অভ্যন্তর ভাগ অধিক কল্যাণকর
হবে।” (তিরমিযী)
“হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। যখন নবী করীম
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
নিকট এ সংবাদ পৌঁছলো যে, পারস্যের
জনগণ কিসরার কন্যাকে তাদের বাদশাহ
মনোনীত করেছে, তখন তিনি বললেন,
সে জাতি কখনো সাফল্য অর্জন
করতে পারে না, যে জাতি স্বীয়
কাজকর্মের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বভার একজন
নারীর হাতে সোপর্দ করে।” (বুখারী ও
তিরমিযী)
আবু সাঈদ আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা)
থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
(সা) আমাকে বলেছেনঃ হে আবদুর রহমান
ইবনে সামুরা! নেতৃত্বপ্রার্থী হয়ো না।
কারণ প্রার্থী না হয়ে নেতৃত্ব প্রাপ্ত
হলে তুমি এ ব্যাপারে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
পক্ষান্তরে প্রার্থী হয়ে নেতৃত্ব লাভ
করলে তোমার উপরই যাবতীয় দায়িত্বের
বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে। তুমি কোন
বিষয়ে শপথ করার পর তার
বিপরীতে কল্যাণ লক্ষ্য করলে তখন
যেটা ভালো সেটাই করবে এবং শপথের
কাফ্ফারা আদায় করবে। (বুখারী, মুসলিম)
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ
(সা) বলেছেনঃ অচিরেই তোমরা নেতৃত্ব
লাভের অভিলাষী হবে। (মনে রেখ)
কিয়ামাতের দিন এটা তোমাদের জন্য
লজ্জা ও অনুতাপের কারণ হবে। (বুখারী)
“আল্লাহর শপথ, আমরা এমন কোন লোকের
ওপর এই কাজের দায়িত্ব অর্পণ
করবো না যে এর জন্য প্রার্থী হয়
বা অন্তরে এর আকাংখা পোষণ করে।”
সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম


(10)
গণতন্ত্রের বাইপ্রোডাক্টঃ
গণতন্ত্রপন্থী ভাইরা প্রায়ই
যে কথাটি বলে সেটি হলো-
শুধু ইসলামী রাষ্ট্র হলেই
কিংবা রাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন
চালু করলেই
হবে না। বরং তার
আগে ইসলামী আইন
মানার জন্য ভাল মুসলিম
তৈরি করতে হবে।
বিভিন্ন
সেক্টরে ইসলামপন্থী লোক
সাপ্লাই দিতে হবে।
প্রাইমারি স্কুল
থেকে সচিবালয়, পুলিশ
থেকে সশস্ত্র
বাহিনী সব জায়গায়
আগে ইসলামপন্থী লোক
বসাতে হবে।
তারপর রাষ্ট্রে ইসলামী আইন
চালু
করতে হবে।
মূলত তাদের এই ধরনের চিন্তাটাই
ত্রুটিপূর্ণ। প্রথমত তারা 'খেলাফত'
শব্দটিকে 'ইসলামী রাষ্ট্র'
শব্দটি দ্বারা প্রতিস্থাপিত
করতে চাচ্ছে,
হোক সেটা ইচ্ছায়
কিংবা অনিচ্ছায়।
কেননা, তারা শুধু নির্দ্রিষ্ট
ভৌগলিক
সীমাতেই তাদের
চিন্তা ভাবনাকে সংকুচিত
করে রেখেছে।
যাইহোক, মূল প্রসঙ্গে আসি।
রাষ্ট্রের
বিভিন্ন পর্যায়ের জন্য
ব্যাপকহারে ইসলাম
ভাবাপন্ন লোক তৈরি করার পর
রাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করার
এই ভ্রান্ত
ধারণাটি মূলত গণতন্ত্র নামক
কুফরি মতবাদের একটি বাই
প্রোডাক্ট।
অথচ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ
বলেন,
"যখন আল্লাহর পক্ষ
থেকে সাহায্য ও বিজয়
আসবে তখন দেখবে, লোকজন
দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করছে।"
-সূরাঃ নসর, আয়াতঃ ১-২
সুতরাং, বিজয়ের জন্য
দলে দলে লোকদেরকে ইসলামীকরণ
করার
প্রয়োজন নেই।
বরং বদরী সাহাবীগণের মত
তিনশো তের জন মুজাহিদ
তৈরি করতে হবে,
যাদেরকে আল্লাহ তাঁর
প্রতিশ্রুত সাহায্য
ও বিজয় দান করবেন।
আল্লাহ
আমাদেরকে খেলাফতের গুরুত্ব
বুঝার এবং সঠিক পন্থায়
খেলাফত
কায়েমের চেষ্টা করার
তৌফিক দিন।
আমিন।

(9).https://kaizenseries.wordpress.com/2014/11/09/গণতন্ত্র-কি-পারবে-kaizenseri/
https://kaizenseries.wordpress.com/tps://kaizenseries.wordpress.com/
(9). গণতন্ত্র সেক্যুলারিজমের
জারজ প্রোডাক্ট & গণতন্ত্র
হচ্ছে কুফফারদের খেজুরের
তৈরি মূর্তিঃ
Statement 1 : আধুনিক
পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র
হচ্ছে সেক্যুলারিজমের জারজ
প্রোডাক্ট।
Statement 2 : গণতন্ত্র
হচ্ছে কুফফারদের
'খেজুরের তৈরি মূর্তি'।
গণতন্ত্র সম্পর্কে উপরের
দুটি Statement এর
১মটি Theoretical
এবং ২য়টি Practical..
Justification:
১ নং Statement নিয়ে আগে বলি।
Secularism
শব্দের বঙ্গানুবাদ
করা হয়েছে 'ধর্মনিরপেক্ষতা'
যেটা একটা ডাহা মিথ্যা এবং সূক্ষ্ম
প্রতারণা। প্রকৃতপক্ষে Secularism এর
অর্থ
হওয়া উচিত 'ধর্মহীনতা'। মূলত
Secularism বলতে ২টি Concept
কে বুঝায়-
1. Naturalism & 2.
Rationalism
অর্থাৎ Secularism = Naturalism +
Rationalism.
নাস্তিক্যবাদী চিন্তাধারার
প্রসারের
সাথে সাথে দুটো প্রশ্ন গাঢ়
হতে লাগলো।
প্রথমত, বিশ্বজগত
কিভাবে সৃষ্টি হল??
ধর্মতাত্ত্বিকরা ধর্মগ্রন্থের
আলোকে ব্যাখ্যা দিলো। কিন্তু
নাস্তিক
সেক্যুলাররা তো আর
তা মেনে নিতে পারে না।
তাই
তারা প্রস্তাব করলো Naturalism
মতবাদের।
এই মতবাদের সারকথা হল
স্রষ্টা বলে কিছু
নেই, Nature নিজে নিজেই
পরিপূর্ণ ও
স্বয়ংসম্পূর্ণ।
২য় যে প্রশ্নটি আসলো তা হল
সমাজ
রাষ্ট্রের আইন
কিভাবে তৈরি হবে??
ধার্মিকরা না হয় ধর্মগ্রন্থ
ফলো করে।
নাস্তিকরা কি করবে??
নাস্তিকরা মীমাংসা দিল
যে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তি ও
যুক্তি কাজে লাগিয়ে আইন
তৈরি করবে,
কোন Holy Scripture এর ধার
ধরবে না।
এটাকে বলা হয় Rationalism.
এই Rationalism প্রয়োগ
করে সমাজের আইন
তৈরির কারখানাই হল আধুনিক
পার্লামেন্ট, যেখানে MP দের
হ্যাঁ-না-
সংখ্যাধিক্যই হল আইন তৈরির
প্রক্রিয়া।
কাজেই বুঝা গেল Secularism হল
নাস্তিকতাবাদের জারজ
প্রোডাক্ট, আর
আধুনিক
পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র হল
Secularism এর জারজ প্রোডাক্ট।
২নং Statement টি বেশ
কৌতূহলীদ্দীপক।
জাহেলী যুগে উমার (রাঃ)
একদিন কোথাও
যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর
পূজা অর্চনা করার ইচ্ছে হল। কিন্তু
আশেপাশে কোন মূর্তি পেলেন
না।
অগত্যা খেজুর
দিয়ে মূর্তি তৈরি করলেন।
তারপর অঢেল
ভক্তি শ্রদ্ধা নিয়ে পূজা-
অর্চনা করলেন। কিছুক্ষণ পর
ক্ষুধা লাগলো।
তখন তিনি সেই মূর্তিটিই
ভেঙে খেয়ে ফেললেন!! এটাই
হচ্ছে কুফফারদের খেজুরের
তৈরি মূর্তি,
যখন
ইচ্ছা তারা এটাকে ভক্তি করে,
পূজা করে, নিজেকে নিবেদন
করে আবার
যখন ইচ্ছে হয়, যখন
প্রবৃত্তি তাড়না দেয়,
তখন এটাকে খেয়ে ফেলে!!
এবার আসা যাক গণতন্ত্রের
ব্যাপারে। এ
যমানার কুফফাররা ও তাদের প্রভু
আমেরিকা দেশে দেশে গণতন্ত্রের
ফেরি করে বেড়ায়। এই
গণতন্ত্রকে তারা পূজা করে,
অর্চনা করে।
এমনকি এই গণতন্ত্রের জন্য
তারা যুদ্ধও করে।
আমরা যখন বলি 'আল্লাহ
যেটা দিয়েছেন
সেটাই আইন', তখন ওরা বলে "না,
পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যা দিয়েছে তাই
আইন।"
[{ আল্লাহ বলেন, "আম লাহুম
শুরাকায়ু
শারায়ু লাহুম মিনাদ দ্বীন
মা লাম
ইয়াহযান বিহিল্লাহ" অর্থাৎ
"তাদের
কি এমন কতগুলো শরীক (উপাস্য/
বিধানদাতা)
আছে যারা তাদেরকে এমন
কতগুলো বিধান দিয়েছে যার
নির্দেশ
আল্লাহ দেন নি???"
আমাদের বিধানদাতা আল্লাহ
আর ওদের
বিধানদাতা পার্লামেন্টের
সংখ্যাগরিষ্ঠতা!! }]
কিন্তু যখন দেখা যায় ওদের
ফর্মুলা মেনেই
ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় আসে, যখন
ওদের
পার্লামেন্টের
সংখ্যাগরিষ্ঠতাও
ইসলামী শরীআকে সাপোর্ট
করে, তখন
ওরা তাদের পূজিত
গণতন্ত্রকে খেজুরের
মূর্তির
মতো চিবিয়ে খেয়ে ফেলে!!
তখন
ওরা ওদের ব্যালটের
উপাস্যকে মনে রাখে না,
মনে রাখে না ওদের
সংখ্যাগরিষ্ঠতার
উপাস্যকে!! ঠিক এ ঘটনাই
ঘটেছে আলজেরিয়া ও মিশরে।
এ কারনে আইমান আল
জাওয়াহিরি বলেছেন,
"গণতন্ত্র হল কুফফারদের খেজুরের
তৈরি মূর্তি, যখন
খুশি তারা এটাকে পূজা করে আবার
যখন
খুশি তারা এটাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে!!"

###nk
মানুষ আদতেই আবেগের
ডিব্বা। কেবল লোকলজ্জার
কারণে ইহা লুকাইয়া
রাখিবার চেষ্টা করে। তাই
অনলাইনে আসিয়াই আবেগের
স্রোত প্রবাহিত হইতে দেখি।
আর ইসলামের নামে সে কি
আবেগ!!
অমুক ইসলামের এই ক্ষতি
করিয়াছে তো সেইরকম
আবেগি বাক্য দিয়া আক্রমণ
এবং তাহার কি কি শাস্তি
হইবে ইহা নির্ধারণ করিয়া
শাস্তি প্রয়োগের বিধান
পর্যন্ত দিয়া দেয় এমন কিছু
নাবালক যাহাদের এই বিষয়ে
নুন্যতম জ্ঞান নাই।
ইসলাম একটি জীবনব্যবস্থা
যেইখানে ব্যক্তি নয় বরং
আদর্শের অনুসরণ করা হয়। কোন
জীবনব্যবস্থা হইতে উৎসারিত
রাষ্ট্রব্যবস্থা যেমন কোন একক
ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল নয়
তেমনি কোন রাষ্ট্রব্যবস্থা
একক ব্যক্তির মৃত্যুতে ধ্বংস হয়
না। হয়ত তাহার
উত্তরাধিকারীর দ্বারা আরও
শাণিত হয়।
রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
করিতে গেলে যেমন ক্রমাগত
অন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার উপর
আদর্শিক আঘাত হানিতে হয়
তেমনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা
টিকাইয়া রাখিতে ক্রমাগত
কোন ব্যক্তির কারিশমা নয়
আদর্শের উপর সমগ্র
অনুসারীগোষ্ঠীকে সচেতন,
ঐক্যবদ্ধ আর সক্রিয় রাখিতে হয়।
ব্যক্তির পতন রাষ্ট্রশক্তির
বিন্দুমাত্র ক্ষতি করিতে
পারে না। অথচ আবেগের
আতিশয্যে সমাজ পরিবর্তনের
স্বাভাবিক এবং একমাত্র পথ
হইতে আমরা বহুদুরে চলিয়া
যাই। এইবার ঐ ব্যবস্থার ধারক
কিংবা তাহাদের কোন
অনুসারীর মরণে প্রবল খুশিতে
ডুগডুগি বাজাই আর নিজেদের
চিন্তার দৈন্যতা প্রকাশ করি।
এইভাবে প্রচলিত ভ্রান্ত আর
জাহেলি ব্যবস্থার ভুল তুলিয়া
ধরিয়া শাসকগোষ্ঠীকে
ক্রমাগত আদর্শিক
চ্যালেঞ্জের মুখে নিয়া
গিয়া উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ
করিবার প্রচেষ্টা হইতে দূরে
সরিয়া যাই। শাসনব্যবস্থার
প্রত্যেকটা ভুল কাজে
লাগাইয়া সচেতন আদর্শিক
রাজনীতি শিখিতে না
পারিলে হয়ত দুই একজন কাফির
মারিয়াই খুশি থাকিতে
হইবে। সত্যিকার পরিবর্তন
আসিবে না। কারণ সত্যিকার
পরিবর্তন এই আবেগের
ডিব্বাগণ চাইতেই জানে না।

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৫

histry of i


যখন সৌদির বাদশাহ তাদের
দোস্ত বারাক ওবামা আর তার
বউ মিশেল ওবামাকে লাখ
লাখ ডলার গিফট দেয়,সৌদি
প্রিন্স লাখ ডলার খরচ করে কিম
কার্দাশিয়ানকে
রাত্রিযাপনের অফার দেয় বা
সৌদি বাধশাহ-প্রিন্সর
া বিলাশবহুল জীবন যাপন করে
ঠিক তখন ফিলিস্তিনের
শিশুরা রক্তের বন্যায় গোছল
করে,সিরিয়ান শিশুরা
শীতের কষ্টে,খুধার কষ্টে মৃত্যুর
দিকে ধাবিত হয় আর তাদের
দোস্তরা ইরাক,আফগানিস্তা
ন,পাকিস্তানে ড্রোন হামলা
চালিয়ে মুসলিম মারার
উৎসবে মাতে!!
এরপরেও নাকি সৌদি
বাদশাহ আমাদের অভিভাবক!!
আমাদের ঐক্যের প্রতীক!!
আমাদের নতুন অভিভাবক(!)
সালমান বিন আজিজ ক্ষমতায়
গিয়েই সিরিয়ায় তার দোস্ত
আসাদ কর্তৃক অনাথ/এতিম হওয়া
শিশুদেরকে সৌদি পরিবার
দত্তক নিতে পারবে না মর্মে
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে!!
কিছু বলতেও লজ্জা লাগে.…


সৌদি আরব যতটুকু মুসলিমদের
দান খয়রাত করে, তারচেয়ে
বেশি দান খয়রাত করে কুফ্ফার
দেশগুলোতে কারণ: কথিত
সন্ত্রাসী ঠেকাতে এবং
ক্ষমতা পাকাপুক্ত রাখতে
তারা এই কাজটিই বেশি করে
থাকে! উদাহরণ স্বরূপ:
ইংলেন্ডের, আমেরিকার
ওয়ালস্ট্রীটে বিজিনেসে
যেমন: সিটি গ্রুপ, মরগ্যান
স্টানলি, জেপি মরগ্যান বেঙ্ক
গুলোতে সৌদির ৭ ট্রিলিয়ন
ডলার ইনভেস্টমেন্ট! আর ঐসব
সৌদি এবং গলফ বাদশাদের
দ্বারাই এইসব সুদী মার্কিন
বেঙ্ক গুলো প্রতিষ্টিত!! আর
যখনই ঐসব সুদী বেঙ্ক গুলো
দেউলিয়া হয়, তখন মুক্ত হস্তে
ঐসব আরব বাদশাহরা ওই সুদী
কোম্পানি গুলোকে সাহায্য
করে থাকে!! এবং যখনই
আমেরিকা, ফ্রান্স,
ইংল্যেন্দে অর্থনৈতিক মন্দা
অবস্থা দেখা দেয় তখন সৌদি
সহ গলফ স্টেট থেকে ট্রিলিয়ন
ডলার, পাউন্ড দিয়ে ওদেরকে
সাহায্য করা হয়! আর সৌদি
প্রিন্স তালাতের এইসব সুদী
বেঙ্ক /সিটি বেঙ্ক, মরগ্যান
স্টেনলি সহ সবটিতে তার ৩০
পার্সেন্ট শেয়ার আছে!!


ঘুরে ফিরে সেই ৯০ থেকে
আরেক ৮৫ বছরের কথিত মুসলিম
উম্মাহর অভিভাবক!! এইসব
কিডনি, ডায়াবেডিস,
শ্বাসকষ্ট রোগীদেরতো
হাসপাতালে অবসর নেওয়া
দরকার!! ওরা কি পারবে
মুসলিমদের দুঃখ দূর করতে,
পারবে কি ইহুদিদের দখল
থেকে মাসজিদুল আল আকসা
দখল করতে, পারবে কি বার্মা,
ফিলিস্তিন, কাশ্মির, ইরাক,
সিরিয়া সহ দুর্গত মুসলিমদের
পাশে দাড়াতে?? ইখতিয়ার
উদ্দিন বিন খলজী,
সালাউদ্দিন আইয়ুবীর মত ১৬/
১৭ বছরের যুবক যখন ওই আসনে
বসবে, তখনই মুসলিম উম্মার গর্ব
করার দিন আসবে!! এই সব অথর্ব
৮৫/৯০ বছরের ডায়াবেডিস
রোগী দিয়ে বরং তামাশাই
দেখা যাবে!!n

হিজরী ৬৫৬ সন (খ্রীষ্টাব্দ ১২৫৮ সন), মুসলিম বিশ্বের
দৃশ্য। খ্রীষ্টানদের পঙ্গপাল, হিজরী ৬৪৮
সনে (খ্রীষ্টাব্দ ১২৫০ সন) মুসলিমদের এক আকস্মিক
আক্রমণ দ্বারা পরাজিত হয়, যখন উত্তর আফ্রিকায় একজন
মুসলিম রসায়নবিদ/উদ্ভাবক সর্বপ্রথম আগ্নেয়াস্ত্র
উদ্ভাবন করেন।(দেখুন ১৯৮৭, গিনীজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড
রেকর্ডস)। রাইফেল-এর ন্যায় দেখতে এই ‘সিংগেল সট্
উইপন’ মুসলিমদেরকে রক্ত পিপাসু খ্রীষ্টানদের বছরের
পর বছর মুসলিমদেরকে সম্পূর্ন ধ্বংস করার
চেষ্টা থেকে উদ্ধার করে। সেই সময় থেকে উন্নতি/
সমৃদ্ধি শুরু হয়। মুসলিম মহানগরীসমূহ হাসপাতাল ও
ল্যাবরেটরী দ্বারা প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠেছিল। ২৩৫
হিজরী (খ্রীষ্টাব্দ ৮৫৯ সন)।
আসলো এবং পেড়িয়ে গেল, এবং শ্রদ্ধেয় ‘আলিম
আবূল হাসান ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ টেলিস্কোপ আবিষ্কার করলেন,
গ্যালিলিও-এর জন্মের আরোও বহু বছর পূর্বে।
(এ্যাপেন্ডিক্স-এ দেখুন, রফিক্ব যাকারিয়্যাহ রচিত
“দী স্ট্রাগল উইদইন ইসলাম”) পবিত্র এক
ইলাহে বিশ্বাসীরা ইতিমধ্যেই পশ্চিম
আফ্রিকা থেকে যাত্রারম্ভ
করেছে এবং কালো মহাউদ্যান (আটলান্টিক
মহাসাগর) পাড়ি দিয়েছে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ-এ
ইসলামের বার্তা নিয়ে আগমন করেছে।(এ্যাপেন্
ডিক্স-এ দেখুন, Zvi Dor রচিত
“ডিসকভারিং আমেরিকা”)।
আমরা পূর্বাংশে ছড়িয়েছি, এবং এই
সময়ে কোরিয়ায় বড় মুসলিম জনসংখ্যা ছিল, এবং সেই
সাথে ছিল দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার তিব্বতে ও চীনে।
(এ্যাপেন্ডিক্স-এ দেখুন, Philip AlKhouri Hitti রচিত
“হিস্টোরী অফ দী এ্যারাব্স”,আর সেই সাথে দেখুন
ইব্ন বতুতা রচিত “আর-রিহলিা”)।
বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছিল
দৈনন্দিন কার্যব্যবস্থা। বিশেষ করে বাগদাদ
ইসলামের ’আলিমগণ দ্বারা এবং অন্যান্যদের
দ্বারা উপচে পড়ছিল, যারা ইউরোপের ক্ষুধার্ত
পাহাড়সমূহ থেকে এসেছিল,
যারা শিখতে এসেছিল যে, গোসল
কিভাবে করতে হয়, কিভাবে পড়তে হয়,
এবং গণিতে কিভাবে শূণ্য ব্যবহার করতে হয়।
বায়োলজি ছিল একটি প্রশংসিত বিষয়, এবং সেই
সাথে উদ্ভিদবিজ্ঞানও। ইসলামের ’আলিমগণ, আল-
হাফিয ইবন কাসীর, শাইখ উল-ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ,
শাইখ উল-ইসলাম ইবন রজাব আল-হান্বালী, শাইখ উল-
ইসলাম ইবন হাজার আল-আসক্বলানী, আল ‘আল্লামাহ্
ইবন দাক্বিক্ব আল-‘ঈদ, শাইখ উল-ইসলাম ইমাম আন্-
নাওয়ায়ী, আল-‘আল্লামাহ্ ইবন ক্বয়্যিম এবং আল
‘আল্লামাহ্ মুহাম্মাদ ‘উসমান আয্-
যাহাবী (রহিমাহুমুল্লাহ), তারা সকলেই এই
সময়ে বাস করেছেন।
৩০০ বছর ধরে বাইফোকাল (দূরের ও কাছের উভয় দৃষ্টির
জন্য তৈরী লেন্স বিশেষ) বর্তমান ছিল। ইহূদীরা,
যারা বহু বছর ধরে খ্রীষ্টানদের দ্বারা ব্যাপক ধ্বংস-
যজ্ঞের শিকার হয়েছিল, তারা ‘ইরাকে বসবাস
করছিল এবং সেখানে লাভ করছিল এক অভিজ্ঞতা,
এবং স্পেইনেও, যা ইহূদী ’আলিমগণ
পরবর্তীতে বলেছিলেন, “ইহূদীধর্মের স্বর্নযুগ।” কিন্তু
হায়, এটা স্থায়ী ছিল না।
কিন্তু, সেই নিয়তি নির্দিষ্ট বছরে একটি কালো মেঘ
মধ্য এশিয়া থেকে আগমন করল। লোমশ পোশাক
পরিহিত এবং ঘোড়া ও উটের উপর আরোহিত
লোকেরা দ্রুত বেগে ধেয়ে আসলো, তাদের উদ্দেশ্য
হল লুন্ঠন ও ধ্বংস। টার্গেট নির্দিষ্ট করা হত, সম্পদ
খোঁজা হত এবং নারীদের অন্বেষণ করা হত ধর্ষন করার
উদ্দেশ্যে। বাগদাদ এই ড্রামার এক দৃশ্যে পরিণত হল।
তাতার-রা বাগদাদে অবতরণ করল এবং তাদের
সমরাভিযান শুরু করল, যা শুরু হল
কিতাবাদি পোড়ানো, ’আলিমদের গনহত্যা,
এবং সেই সাথে খলীফাহ্ মু’তাসিম এবং তার
পরিবারকে হত্যাকার্যের মাধ্যমে। শি‘আহ্ অংশ
তাদের আগমণ সম্পর্কে জানতো এবং তাদের
সাথে একটি সমঝোতা করল। যদি তাতার-রা তাদের
ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকে, তবে তারা তাদের
সাথে লুন্ঠিত মালামাল বন্টনের পর এক
চুক্তিতে আবদ্ধ হবে।
বাগদাদ মহানগরী অবিশ্বাস্য
বিভীষিকা দেখেছিল, ক্বুরআন এবং হাদীসের
কিতাবাদি পাইল-আকারে পোড়ানো হয়েছিল
এবং মানবদেহ গণকবর-আকারে পোড়ানো হয়েছিল।
ল্যাবরেটরীগুলো সময় কাটানোর আর উপযোগী রইল
না। এ সময় মানুষেরা আত্মগোপন করে চলছিল।
মসজিদগুলোও নিরাপদ রইল না, কারণ বেশীরভাগ
মসজিদগুলোই যুদ্ধের বাংকার হিসেবে ব্যবহৃত
হচ্ছিল। গেরিলা ওয়ারফেয়ার ও স্ট্রীট টেরোরিজম
সাধারণ ঘটনায় পরিণত হল।
শারী‘য়াহ তার জায়গা থেকে সরে গেল, যার কাজ
মুসলিমদের স্বার্থরক্ষা এবং পৃথিবীকে রক্ষা। মুসলিম
নারীরা শাইতন লোকদের হাতে পড়ল,
যারা তাদেরকে নিজেদের সম্পদের ন্যায়
নিয়ে যেত, এবং উপপত্নী/
রক্ষিতা হিসেবে উপভোগ করত। এরপরই
আসলো কালো অন্ধকারের ও অত্যাচারের যুগ। এই
সময়ে মুসলিমদের তাদের কার্যপরিচালনার জন্য কোন
খিলাফাহ্ ছিল না। আমরা টুকরা টুকরা হয়ে গেলাম
এবং কিছু খন্ডাংশ ও ক্ষুদ্রাংশে পরিণত হলাম। এই
ধ্বংস কারোও কারোও জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল,
আর তারা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল।
একমাত্র আইনের শাসন আসলো লুন্ঠনকারী/
শিকারী গোষ্ঠীটির থেকে, যারা মধ্য
এশিয়া থেকে আসলো এবং যাদের আগে কোন
প্রকার ধর্ম/দ্বীন, ঈমান-‘আক্বীদাহ্
এবং পৃথিবীকে দেওয়ার মত কোন বার্তা/খবর-ই ছিল
না। তারা শুধুমাত্র এক জায়গা থেকে আরেক
জায়গায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতো। আর
একবার তাদের সম্পদ ফুরিয়ে গেলে তারা অপর কোন
সভ্যতায় লুন্ঠন অভিযান চালাতো, তাদের প্রাকৃতিক
সম্পদ সম্পূর্নরূপে ভোগ করত, যতক্ষণ পর্যন্ত
না তা নিঃশেষ হয়ে যায়
এবং অবশেষে সেখানকার মানুষদের এক বিপর্যয়ের
মধ্যে ফেলে তারা চলে যেত। লাইব্রেরীগুলোকে
পুড়িয়ে মাটির সাথে তারা মিটিয়ে দিয়েছিল,
যেহেতু তারা পড়াশুনা ও শিক্ষায় আগ্রহী ছিল না,
’আলিমদের হত্যা করেছিল, কারণ এসব মানুষ কোন
প্রকার প্রজ্ঞার কথা শুনতে চাইত না।
তুমি জিজ্ঞেস করতে পারো যে, আমরা কেন মুসলিম
ইতিহাসের এই কুৎসিত/দুঃখজনক ট্র্যাজেডির
পুনারাবৃত্তি করছি,
যা থেকে ইরাকী সভ্যতা এখনো সম্পূর্নরূপে সামলে উঠতে পারেনি।
আমরা এই ঘটনাটি বর্ণনা করছি, কারণ এটাই
ইতিহাসের একমাত্র সময় যখন মুসলিমদের কোন
খিলাফাহ্ ছিল না, এবং শারী‘য়াহ-এর কোন প্রয়োগ
ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, আরোও একটি সময় আছে যখন এরূপ
একই প্রকার ঘটনা ঘটেছে। আর সেই সময় হল এখনকার সময়।
যেকোন সময়ে মুসলিমরা যদি আজ কোন বিষয়ের
অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে চায়, তবে ইতিহাসের
শুধুমাত্র যে অংশের সাথে আমরা আজকের
তুলনা করতে পারি তা হল, তাতারদের সময়কাল। কেন?
এসব লোকেরা এসেছিল, আক্রমণ করেছিল
এবং মুসলিমদের লাঞ্ছিত/অপমানিত করেছিল,
বিভিন্ন ভগ্নাংশে মুসলিম বিশ্বকে বক্রভাবে বন্টন
করেছিল, এবং এরপর মানুষদের শাসন করেছিল তাদের
প্রণীত নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা। এ সবকিছুর উপরে,
তারা ইসলাম থেকে কিছু ধারণা গ্রহণ করেছিল, এর
সাথে তাদের ধারণার সংমিশ্রন করেছিল,
এবং এরপর নিজেদেরকে মুসলিম বলে সম্বোধন করা শুরু
করল এবং তাদের আইন-কানুন-কে ইসলামিক বলা শুরু
করল, শারী‘য়াহ-এর বহিরাবরণের আড়ালে।
আজকের দিনকে আমরা শুধুমাত্র এর সাথেই
তুলনা করতে পারি। যাহোক, এর
মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
তাতারদের সময়ে, কয়েক বছরের মধ্যেই শারী‘য়াহ-এর
পূণঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। আজ প্রায় ৭৫ বছর হয়ে যাচ্ছে,
আর আমরা আমাদের উপর শাসকবিহীন
অবস্থা নিয়ে প্রায় স্বাভাবিকই হয়ে যাচ্ছি।
তাতারদের সময়ে, অনেক ’আলিমদের
হত্যা করা হয়েছিল এবং অনেকে মুখ খুলতে ভয়
করছিলেন। কিন্তু, শাইখ ইব্ন তাইমিয়্যাহ্, আর সেই
সাথে তার ছাত্রগণ ইব্ন কাসীর, মুহাম্মাদ ‘উসমান আয্-
যাহাবী, এবং ইব্ন ক্বয়্যিম (রহিমাহুমল্লাহ), সত্য
বলতে ভয় করেন নি, এমন কি তাদের জীবনকেও
ঝুঁকিপূর্ণ করেও।
তাদের সামনের পরিস্থিতি তারা গভীর মনযোগ
দিয়ে দেখেছেন এবং পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই
অধঃপতন-এর জন্য কিরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং এর
থেকে মুক্তি পাবার উপায় কি, তা শিক্ষা দেবার
জন্য, মুসলিমদের জন্য ফাতাওয়া তৈরী করা হয়েছিল।
এসব মহান ব্যক্তিদের কিতাবাদিতে, সেই
অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে তাদের কৃত কাজের সাক্ষীস্বরূপ
ভলিউমের উপর কার্যাবলি পড়ে আছে একটি ‘কোড
বুক’-এর ন্যায়, সেইদিনের জন্য যখন এমন ঘটনাসমৃদ্ধ দিন
আবার আসে। এই ঘটনাসমূহ তাতারদের কার্যাবলির
বর্ণনা করে, যারা শারী‘য়াহ ব্যতীত অন্য আইন
দ্বারা শাসন করছিল। তাদের মধ্যে কতক সলাহ্ আদায়
করত, সিয়াম পালন করত, হাজ্জ্ব করেছিল এবং এরূপ
অনেক কিছু, কিন্তু বিচারবিধান আগের মতই
রয়ে গেল। সেই সময়কার সকল আমানতদার ’আলিমগণ,
শাসনকার্যের সাথে জড়িত তাতারদের কুফ্ফার
বলে শ্রেণীবদ্ধ করেছিলেন, ঠিক এই হাকিমিয়্যাহ্-
এর বিষয়টির কারণেই। আমরা চাইব যেন পাঠক সেই
বৈশিষ্ট্যগুলো দেখেন যেগুলো ইব্ন তাইমিয়্যাহ ﺭﺣﻤﻪ
ﺍﻟﻠﻪ এবং তার সময়কার অন্যান্য ’আলিমগণ তাতারদের
সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, আর দেখেন যে,
সেগুলোকে আমাদের এখনকার সময়ের সাথে আর
আমাদের শাসকদের অবস্থার সাথে মিলানো যায়
কিনা। আপনি নিজেই দেখতে পারেন
এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
’আলিমদের অবস্থানগত সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখুন
এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন যে, তাদের
কথা এবং তাদের দেওয়া দালীলের উপর
ভিত্তি করে, আমাদের কি করা উচিত। যেহেতু,
এটিই একমাত্র সময়, যার সাথে আমরা আজকের
তুলনা করতে পারি, যখন কোন শারী‘য়াহ নেই, নেই
কোন খিলাফাহ্, তাই এটা বিশ্বাস করাই যুক্তিসঙ্গত
যে, এসকল ন্যায়পরায়ণ ’আলিমগণ
যে পথনির্দেশনা প্রয়োগ করেছিলেন, তাতেই
সমাধান নিহিত।

4. খিলাফাত, দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে?!


(8)
গণতন্ত্র
দিয়ে কি মনযিলে মকসুদে পৌঁছা যাবে...??
যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নিই
যে শরীআ
গণতন্ত্রকে মৃদু সম্মতি দেয়,
তাহলেই
কি আমরা সেই
মনজিলে মকসুদে পৌছঁতে পারবো?
বিশেষ
করে আলজেরিয়া ও মিশরের
ঘটনার পর এ
বিষয়টি ইসলামপন্থীদের
ভাবিয়ে তুলছে!
১.
কুফরকে মিটিয়ে দিয়ে তাওহীদ
প্রতিষ্ঠার ইসলামী রাষ্ট্রের
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল নামায
কায়েম
করা। এবং এ কাজ
না করলে হাদীসে শাসকের
বিরুদ্ধে অস্ত্র
ধরার অনুমতি আছে।
নামায কায়েমের
ব্যাপারে রাষ্ট্রের
কর্তব্য কি? এ ব্যাপারে ইমাম আবু
হানীফার মত হল
বেনামাযীকে তওবা না করা পর্যন্ত
জেলে বন্দী রাখা হবে আর
অন্যান্য
আলেমদের মত হল তওবার আহ্বান
জানানো হবে অন্যথায়
তাকে হত্যা করা হবে। এখন
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার
সবচেয়ে vital
একটি element এ গণতন্ত্র কতটুকু সফল
হবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক
জরিপে দেখা গেছে দেশের
মাত্র ২% মানুষ
৫ ওয়াক্ত নামায পড়ে। এখন
আপনি কি করে আশা করেন
যে তারা নামায কায়েমের এ
ধরনের
বিধানের পক্ষে ভোট দিবে?
অর্থাৎ তাদের
ভোটে ইসলামী বিধান
বাস্তবায়িত
হবে এটা একটা আকাশ কুসুম
কল্পনা।
ইনফ্যাক্ট গণতন্ত্রবাদী কোন
একটি ইসলামি দল
যদি ভাগ্যক্রমে ক্ষমতায়
আসেও, তবুও তারা কখনই নামায
কায়েম
করবে না। কেননা এতে পরের
নির্বাচনে গদি হারানোর ভয়
আছে!!
(এ বিষয়টা আরো একটু পরিষ্কার
করিঃ যদি কোন রাষ্ট্রের
শতভাগ মুসলিম
নামায পড়ে তবুও আমরা ঐ
রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্র
বলবো না যদি বেনামাযীর
শাস্তির
বিধান না থাকে। কিন্তু
যে রাষ্ট্রে বেনামাযীর
শাস্তির বিধান
আছে, চাই সে রাষ্ট্রের সবাই
নামায নাও
পড়ুক তাও সেটা ইসলামিক রাষ্ট্র।
বস্তুত
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্ক সম্যক
আইডিয়া না থাকার কারনেই এই
বিভ্রান্তগুলো ছড়াচ্ছে। কেউ
কেউ
মনে করে তাদের দল ১৫১ টা সিট
পেলেই
রাষ্ট্র ইসলামী হয়ে যাবে।)
২. ইসলাম নামক মুক্তির বিহঙ্গ আজ
জাতীয়তাবাদের লোহার
খাঁচায় বন্দী।
গণতন্ত্র কি পারবে এ লোহার
খাঁচাকে ভেঙে ফেলতে???
৩. কোন ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম
থেকে ইহুদী বা খ্রিষ্টান
হয়ে গেলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব
হল
তাকে ক্বতল করা। আপনার
কি মনে হয়
আমেরিকা আপনাকে এত
সহজে এই আইন
বাস্তবায়ন করতে দিবে??
৪. ইসলামী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হল
তা ইহুদি খ্রিষ্টানদের কাছ
থেকে জিযিয়া আদায় করবে।
যারা কারনে অকারনে মার্কিন
দূতাবাসে ধন্যা দেয়,
তারা এটা করার
সাহস দেখাবে বলে কি আপনার
মনে হয়??
কুফফারদের ফর্মুলায় তাদের
স্বার্থবিরোধী আইনের স্বপ্ন
দেখা কি নিছক বিভ্রান্তি নয়??
৫. ইসলামী রাষ্ট্র ইসলাম
বিরোধী সকল
বাতিল দলকে নিষিদ্ধ করবে,
চাই
তারা বামপন্থী হোক, সেক্যুলার
হোক,
কিংবা জাতীয়তাবাদী হোক।
তাদেরকে তওবা করার আহ্বান
জানানো হবে, অন্যথায়
তাদেরকে মুরতাদ
ঘোষণা করে হত্যা করা হবে।
বহুদলীয়
গণতন্ত্রকে স্বীকার
করে নিয়ে এ কাজ
করার সুযোগ কোথায়?? জনগণের
ম্যান্ডেট
নিয়ে ক্ষমতায় এসে তাদের
প্রিয় নাস্তিক
বুদ্ধিজীবী কবি সাহিত্যিককে হত্যা করার
নৈতিক শক্তি ইসলামি দলটি কই
পাবে?
অন্যান্য দলসমূহ নিষিদ্ধ
করতে গেলে কার্যত
গণতন্ত্রকে কবর
চাপা দিতে হবে। যে জনগণের
কাছ
থেকে ভোটভিক্ষার
মাধ্যমে দলটি ক্ষমতায়
এসেছে তারা এটা মানবে কেন??
আর
পশ্চিমারাই আঙুল চুষবে কেন??
৬. মিশর কিংবা আলজেরিয়ার
মত
পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য
দরকার
অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ।
গণতন্ত্রবাদীদের
এসব পরিস্থিত ট্যাকল দেওয়ার
প্রস্তুতি কতটুকু?? আসলে গণতন্ত্র হল
পশ্চিমাদের তৈরি করা ফাঁদ।
যখন
তারা দেখবে একটি ইসলামী দল
ক্ষমতায়
চলে এসেছে তখন
মিথ্যা অভিযোগে তাদের উপর
সন্ত্রাসী হামলা চালানো হবে এবং তখনও
গণতন্ত্র রক্ষার দোহাই
দেয়া হবে!!
৭. ১ম
পর্বে আমরা দেখেছি পৃথিবীতে ব্যাপক
বিস্তৃত একটি খিলাফতের
প্রতিশ্রুতি রাসূল
সঃ দিয়েছেন।
এবং এটা প্রতিটা মাটির
ঘর বা তাবু পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
তাদেরকে ইসলাম বা জিযিয়ার
আহ্বান
জানাবে। কথিত ভোটাভোটির
মাধ্যমে পৃথিবীতে এত বড়
পরিবর্তন
আসবে বলে বিশ্বাস
করাটা কি বোকামী নয়?
৮. আমেরিকার র্যান্ড
ইন্টস্টিটিউশন
মডারেট মুসলিমদের
যে চারটি বৈশিষ্ট্য
বর্ণণা করেছে এবং যেগুলো তারা
আমাদের উপর ইম্পোস করতে চায়,
তার
দুটি হল-
1. Accepting Democracy as understood in
the
liberal western traditions (not in islamic
perspective)
2. Acceptance of non sectarian source of
law.
Those who want laws from a particular
scriptures
are extremist!!!
বিস্তারিত ইমাম আনোয়ার আল
আওলাকির
'The Battles of Hearts & Minds'
লেকচারটা শুনুন। যারা নিয়মিত
আমেরিকার কাছে নিজেদের
Moderate
প্রমাণের জন্য ধন্যা দেয়,
কিভাবে তারা আমেরিকার
দেওয়া Prescription এ
ইসলামী রাস্ট্র
প্রতিষ্ঠা করবে??
৯. প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হবার
সবচেয়ে সহজ কৌশল হল Dividation
Rule.
মোটাদাগে দেখলে এদেশের
অল্পকিছু
মানুষ ইসলামপন্থী। অতঃপর
বহুদলীয়
গণতন্ত্রের ফর্মুলা এই অল্প সংখ্যক
ভোট
ভাগ হবে এত্ত এত্ত ইসলামী দলের
মাঝে।
একদলের শাইখুল হাদীস
দাড়াবে,
অপরদলে দাড়িবিহীন শিক্ষিত
তরুণ
দাড়াবে। অতঃপর সমর্থকদের
মাঝে শুরু
হবে নোংরা কাঁদা ছোড়াছোড়ির
খেলা,
গীবত, অপবাদ, আর পরনিন্দার
তুবড়ি ছোড়া।
দূর থেকে সেক্যুলার
বামপন্থীরা মজা লুটবে।
১০. শেষকথা একটা প্রকৃত
ইসলামী রাষ্ট্র
বিনা আক্রমণে বিশ্বব্যাপী জিহাদ
পরিচালনা করবে দ্বীনকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী করার
জন্যে। কাজেই কুফফাররা কখনই
নিছক
টিপসই দিয়ে এরূপ রাষ্ট্র
হতে দিবে না।
কখনই না।
আর যদি হুদুদই বাস্তবায়ন
করা না যায়,
তাহলে কিসের ইসলামিক
রাষ্ট্র?? কিসের
জন্য এত সংগ্রাম, এত আন্দোলন??n

(7)
মানবীয় আইনের বেহাল
দশা এবং গণতান্ত্রিক দাওয়াহর
মৌলিক
গলদঃ
[১]
১৯২৬ সালে মার্কিন
পার্লামেন্ট মদ
নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ১৯৩৩
সালে পুনরায়
তা বৈধ করে। এ প্রেক্ষাপটেই
উস্তাদ
মওদুদী (রহঃ) লিখেছেন
'মানবীয় আইন
বনাম আল্লাহর আইন' নামক
সুবিখ্যাত
প্রবন্ধটি। জনগণের হাতে আইন
প্রনয়ণের ম্যান্ডেট দিয়ে আবার
নৈতিকতার
বুলি ছাড়তে গেলে যে কতটা নাজেহাল
হতে হয় এ ঘটনা তার বাস্তব
সাক্ষী। অথচ এ
আইন প্রনয়ণের পূর্বে শুধু প্রচার
কার্যেই ব্যয়
হয়েছিল সাড়ে ৬ কোটি ডলার,
লিখা হয়েছিল প্রায় ৯০০
কোটি পৃষ্ঠা, আইন
বাস্তবায়ন করতে খরচ হয়েছিল ৬৫
কোটি পাউন্ড। কিন্তু আফসোস
মি.
রুজভেল্ট নির্বাচিত হওয়ার পরই এ
আইনের
সমাধি রচিত হয়। মদের
বিপক্ষে এত
চিন্তা গবেষণা, এত প্রচার
প্রচারণা, এত
আয়োজন, এত প্রচেষ্টা এত কিছু সব
ব্যর্থ
প্রমাণিত হয়।
এ হচ্ছে গণতন্ত্রের স্বরূপ যার
মাধ্যমে আল্লাহর আইন
বাস্তবায়নের
দুঃস্বপ্ন দেখছেন কেউ কেউ।
অন্যদিকে আজ থেকে ১৪০০ বছর
পূর্বে ফিরে যান। শুধুমাত্র
কুরআনের আয়াত
দিয়েই মদ নিষিদ্ধের বিধান
শতভাগ
সফলতা লাভ করেছিল, দরকার
পরে নি শত
শত পুস্তকের, কিংবা পুলিশ
প্রশাসনের।
[২]
আল্লাহর রাসূলের (সঃ) দাওয়াত
বনাম
গণতন্ত্রবাদীদের দাওয়াতঃ
আল্লাহর রাসূল (সঃ)
মক্কী জীবনে মানুষকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'
এর মূলনীতিকে লোকদের
অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত
করে দিয়েছিলেন।
তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন
আল্লাহ যা দেন সেটাই আইন,
এটা বিনা প্রশ্ন
মেনে নেওয়াটা ঈমান আর
না মানাটা কুফরি।
তাদেরকে দ্ব্যর্থহীন
ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল
U HAVE NO
CHOICE. U HAVE NO MANDATE...!!
অন্যদিকে আজকের
গণতন্ত্রবাদীরা মানুষের
দ্বারে দ্বারে ঘুরছে,
তাদেরকে দাওয়াত
দিচ্ছে U HAVE RIGHT TO
CHOOSE...
U HAVE MANDATE...
হে জনগণ তোমরাই সব।
তোমরা চাইলে শাহভাগীদের
ভোট
দিয়ে সমকাম বৈধ করতে পারো,
আবার
চাইলে ইসলামপন্থীদের ভোট
দিয়ে মদ
নিষিদ্ধ করতে পারো।
তোমরা যেটা চাইবে সেটাই
হবে।
দয়া করে ভোটটা আমাদের দাও।
আল্লাহর রাসূল সঃ মদ নিষিদ্বের
পূর্বে সাহাবীদের
নিয়ে মিটিং ডাকেন
নি, বলেন
নি যে তোমরা অধিকাংশ মদের
পক্ষে থাকলে মদ জায়েয আর
না থাকলে মদ
নাজায়েয।
অথচ আজকের
গণতন্ত্রবাদীরা সংখ্যাধিক্যের
কুফরি সূত্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
এই
স্বীকৃতিকে কেউ অস্বীকার
করতে পারবে না। কারন তাদের
শরীআ
কায়েমের Procedure ই
হলো পার্লামেন্টে নিজ দলের
MP
সংখ্যা বৃদ্বি করা, যাতে বিল
উত্থাপনের
সময় তারা সংখ্যাধিক্যের
জোরে আইন
চেন্জ করতে পারে। আর এই
কারনেই
তারা ভোটারদের
দ্বারে দ্বারে ঘুরে,
ভোটভিক্ষা চায়।
তারা বুঝতে পারে না যে জনগণকে মাথায়
উঠার অধিকার স্বীকার
করে নিয়ে যদি বলা হয় মাথায়
ওঠা শোভা পায়
না তাহলে জনগণ কেয়ার
করবে না। বিনা টিকেটে রেল
ভ্রমণের
অধিকার স্বীকার
করে যদি পাবলিককে টিকেট
কাটার
অনুরোধ করা হয় তা কতটুকু কার্যকর
হবে???
রাসূল (সঃ) এর দাওয়াতের
সাথে আজকের
গণতন্ত্রবাদীদের দাওয়াতের এই
মৌলিক
পার্থক্যের কারনে গণতান্ত্রিক
পদ্ধতিতে কখনই শরীআ বাস্তবায়ন
করা যাবে না। যদি কদাচিৎ
যায়ও তাহলেও
তা মার্কিন পার্লামেন্টের মদ
নিষিদ্ধের
মতই তামাশায় পরিণত হবে।
[গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন
পরিবর্তনের
সিস্টেম হল বিল উত্থাপন ও
সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফলো করা। এখন
আপনি যদি এই প্রক্রিয়ায় বিল
উত্থাপন ও
সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে মদ
নিষিদ্ধ
করেন, তাও তা হবে একপ্রকার
মানবরচিত
আইন। কারন এটার breeding process
এটাকে তাই বলছে।
আমরা বলবো এটা এক
প্রকার মানবরচিত আইন কিন্তু
ঘটনাক্রমে এটা শরীআ আইনের
সাথে মিলে গেছে।
ব্যভিচারের
ফলে যে বাচ্চা হবে তাকে তো জারজ
সন্তানই বলা হবে, যদিও
ঘটা করে গরু
জাবাই দিয়ে তার
আকীকা করা হোক
কিংবা জব্বরসই একখান
আরবী নাম
রাখা হোক।]

3.খিলাফাত, দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে?!


(6)
হুদাইবিয়ার সন্ধি ও
কুফরী গণতন্ত্রকে সাময়িক
স্বীকৃতিঃ
১. প্রথম কথা হচ্ছে হুদাইবিয়ার
সন্ধিটি ছিল একটা দ্বিপাক্ষিক
চুক্তি।
অন্যদিকে বর্তমান সংসদীয়
গণতন্ত্র হল
একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত
ব্যবস্থা যাতে অনুপ্রবেশ
করতে হয়।
দুটি পক্ষ ছাড়া চুক্তি সম্পাদিত
হয়
না এবং এর দ্বারা উভয়পক্ষই কোন
না কোন
benefit অর্জন
করে অথবা ক্ষতি হ্রাস করে।
অন্যদিকে সংসদীয়
গণতন্ত্রে আগ্রহী গ্রুপকে কিছু
শিরকী মূলনীতিকে স্বীকৃতি দিয়ে তাতে প্রবেশ
করতে হয়। কিন্তু সংসদ
আগ্রহী গ্রুপকে আনার জন্য কোন
ছাড়
দিবে না। কোন
একটি ইসলামী দল
আসা কিংবা না আসার উপর
সংসদীয়
গণতন্ত্র Dependent নয়। কোন বিশেষ
ইসলামী দল প্রতিষ্ঠিত হবার
পূর্বেও
এটা ছিল, এবং ঐ বিশেষ
দলটি যদি ক্র্যাকডাউন করে তবুও
সংসদীয়
গণতন্ত্র বহাল তবিয়তেই থাকবে।
কিন্তু
চুক্তির বিষয়টি এমন নয়।
এছাড়া হুদাইবিয়ার সন্ধির
পূর্বে রাসূল
(সঃ) যুদ্ধের জন্য মনস্থ
হয়েছিলেন।
কাফিররাই অধিক আগ্রহ
দেখিয়েছিল।
২. হুদাইবিয়ার
সন্ধিতে তাওহীদ-কুফর এরকম
কোন ইস্যুতে কি কম্প্রোমাইজ
হয়েছিল??
¤ সন্ধির সময় চুক্তিসম্পাদনকারীর
নাম
হিসেবে আল্লাহর রাসূল
মুহাম্মাদ প্রস্তাব
করা হলে কুফফাররা বেঁকে বসে।
তারা বলে,
"যদি আমরা তোমাকে রাসূলুল্লাহ
বলে মানতাম
তাহলে তো এসবের দরকারই
ছিল না"। অবশেষে রাসূলুল্লাহ
বাদ
দিয়ে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ
লিখা হয়।¤
এটা থেকে অনেকে আদর্শের
ক্ষেত্রে আপোষ প্রমাণের
চেষ্টা করেন।
(নাউজুবিল্লাহ)
প্রথমে বুঝা দরকার
যে যদি রাসূলুল্লাহ
লিখা হত তাহলে এটুকু বলা যেত
যে আমরা আমাদের বিশ্বাস
তাদের উপর
চাপিয়ে দিতে পেরেছি।
কেননা এটা তারা বিশ্বাস
করতো না।
এবং আমরা এটাই চাই কারন
ইসলাম
হচ্ছে সত্য দ্বীন। আর
এটা করতে না পারার
অর্থ এই নয় যে আমরা তাদের
আদর্শকে সাময়িক
স্বীকৃতি দিয়েছি।
*** 'অন্যদের
আদর্শকে স্বীকৃতি দেওয়া'
এবং 'নিজেদের
আদর্শকে অন্যদের উপর
আরোপ করতে ব্যর্থ হওয়া এ দুয়ের
মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান'। ***
আরো সহজে বিষয়টা বোঝার
চেষ্টা করি-
ক) ঐ চুক্তিতে যদি কুফফারদের
কাউকে রাসূলুল্লাহ লিখা হত
তাহলে কি মুহাম্মদ (সঃ)
তাতে সাক্ষর
করতেন???
খ) উক্ত
চুক্তিতে যদি আল্লাহকে বাদ
দিয়ে বা আল্লাহর
পাশাপাশি অন্য
দেবদেবীর কর্তৃত্ব
বা সার্বভৌমত্বের
উল্লেখ
থাকতো তাহলে কি মুহাম্মাদ
(সঃ)
ঐ চুক্তিতে সাক্ষর করতেন??
৩. অনুরূপভাবে আল্লাহর রাসূল
(সঃ)
কাবা চত্বরে মূর্তি থাকা সত্ত্বেও
ছলাত
আদায় করেছেন। এটাকেও
অনেকে কুফরকে সাময়িক
স্বীকৃতিরূপে দেখতে চান।
(নাউজুবিল্লাহ)
এক্ষেত্রে করণীয় ছিল সম্ভবত
দুইটাঃ ১.
আল্লাহর ইবাদাত করা ২. ঐ সমস্ত
মিথ্যা উপাস্যদের মস্তক চূর্ণ
করে দেওয়া।
শক্তি না থাকার কারনে রাসূল
(সঃ) ২য়
টি করতে পারেন নি।
তারমানে এই নয়
যে তিনি সেগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এছাড়া আলী (রাঃ)
থেকে একটি হাদীসে দেখা যায়
রাসূল
সঃ মক্কী যুগেই গোপনে কাবার
মূর্তি ভেঙেছেন। অবশ্য কেউ
কেউ সনদ
নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রাসূল (সঃ) এর দাওয়াত শুরুই
হয়েছিল
ঐসমস্ত উপাস্যদের তাকযিব
(মিথ্যা সাব্যস্ত) করার মাধ্যমে।
একপর্যায়ে কাফিররা তাকে বলেছিল
আপনি আপনার ধর্ম পালন করুন
আমরা কিছু
বলবো না এবং আপনিও আমাদের
উপাস্য
নিয়ে কিছু বলবেন না। কিন্তু
রাসূল (সঃ)
তা নাকচ করে দিয়েছেন।
সূরা কাফিরুনের
মত দ্বর্থহীন সূরাও অবতীর্ণ হয়
মক্কী যুগেই, দুর্বল অবস্থায়ই, রাষ্ট্র
ক্ষমতা প্রাপ্তির পূর্বেই।
অন্যদিকে সংসদীয় প্রক্রিয়া শুরুই
হয়
কুফরকে স্বীকৃতি দেওয়ার
মাধ্যমে।
৪. কেউ কেউ আবার তৎকালীন
আরবের কিছু
রীতিনীতি উল্লেখ করেন
যেগুলো ঐসময়ে রাসূল অনুসরণ
করতেন।
এভাবে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত
করতে চান। অথচ ঐ
রীতিনীতিগুলো এমন নয়
যে কাউকে 'আরবাবাম মিন
দুনিল্লাহ'
অর্থাৎ আল্লাহর পরিবর্তে রব
বানিয়ে দেয়। একটা সহজ উদাহরণ
দেওয়া যাক, একটা বাস
কোম্পানী যদি নিয়ম
করে যে তাদের
বাসে এক তৃতীয়াংশ সিট
মহিলাদের জন্য
রাখা হবে। আর এই নিয়ম কেউ
ফলো করলে আরবাবাম মিন
দুনিল্লাহ
হবে না। কিন্তু কেউ
যদি জনগণের
সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়,
নিজেকে কুফরি সংবিধানের
রক্ষক
মনে করে গর্ববোধ করে দেন ইট ইজ
সিউরলী আরবাবাম মিন
দুনিল্লাহ।
দ্বিতীয়ত ঐসম দ্বীন পূর্ণাঙ্গ ছিল
না,
কেননা একটু একটু
করে অহী নাযিল হচ্ছিল।
আর বর্তমানে এই লজিক
খাটে না।
- - - - - - -
প্রেক্ষাপট বাংলাদেশঃ
সংবিধানের ৭(২) ধারাঃ
"জনগণের অভিপ্রায়ে পরম
অভিব্যক্তিকরূপে
এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের
সর্বোচ্চ আইন
এবং অন্য কোন আইন যদি এই
সংবিধানের
সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়,
তাহা হইলে ঐ
আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ
ততখানি বাতিল বলে গণ্য হবে।"
চিন্তা করতে থাকুন। এবার দেখুন
মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্যদের
শপথঃ
সংবিধানের ৩য় তফসিল ২(ক) :
"...... আমি সংবিধানের রক্ষণ,
সমর্থন ও
নিরাপত্তা বিধান করিব ......."
(নাউজুবিল্লাহ)
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন
এবং হাক্ককে হাক্করূপে ও
বাতিলকে বাতিলরুপে বুঝার
তৌফিক দান
করুন।


(5)
'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইসলাম
কায়েম'
ইস্যুতে ইমাম আনোয়ার আল
আওলাকি যা বললেনঃ
গণতান্ত্রিক
নির্বাচনে অংশগ্রহণের
মাধ্যমে পরিবর্তনের
প্রবক্তারা এই
কথা বলে শুরু করেন যে, গণতন্ত্র
কুফর
এবং আমরা এতে বিশ্বাস
করি না, কিন্তু
আমরা এটিকে ক্ষমতায় যাওয়ার
মাধ্যম
হিসাবে ব্যবহার
করছি এবং আমরা ক্ষমতায়
যাওয়ার পর
ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবো। এ কথাই
আমি শুনছি ৮০’র শেষ ও ৯০’র শুরু
পর্যন্ত
ইখওয়ানের প্রত্যেক নেতৃস্থানীয়
সদস্য
থেকে। আমার পরিষ্কার
মনে আছে সেই
গণ- আলোচনার কথা যা ঘটেছিল
এই
বিষয়ের উপর, কারণ তখন
সালাফীরা এই
পয়েন্টে ইখওয়ানের ঘোর
বিরোধী ছিল।
আমার এও স্পষ্ট
মনে আছে ইখওয়ানের
কয়েকজন শাইখের সাথে আমার
সেই একান্ত
আলোচনার
কথা যেখানে তাঁরা বারংবার
বলছিলেনঃ গণতন্ত্র
অনৈসলামীক
এবং আমরা নির্বাচনে অংশ
নিচ্ছি, কিন্তু
আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এর (অর্থাৎ
গণতন্ত্রের)
মধ্যে থেকে সিস্টেমের
পরিবর্তন করা।
এই পদ্ধতির
মধ্যে তিনটি সমস্যা আছেঃ
প্রথমতঃ গণতন্ত্রকে ব্যবহার
করা এবং গণতান্ত্রিক
সিস্টেমের
অনুগামী বলে দাবী করা কিন্তু
তাতে বিশ্বাস না রাখা –
এটি একটি প্রতারণা ও
মিথ্যাচার। এখন
শত্রুর
বিরুদ্ধে প্রতারণা গ্রহণযোগ্য,
যদি মুসলমানরা তাদের
সাথে যুদ্ধে লিপ্ত
থাকে। সমস্যাটা হল, এই বিশেষ
দলগুলো যারা গণতান্ত্রিক
প্রক্রিয়ার
সাথে জড়িত; বিশ্বাস
করে না যে তারা কাফেরদের
সাথে যুদ্ধে লিপ্ত আছে,
বরং বিশ্বাস
করে যে, মুসলমান ও কাফেরদের
মাঝে চুক্তি আছে।
সুতরাং যদি আমরা কাফেরদের
সাথে চুক্তিবদ্ধ
থাকি তাহলে তাদের
(কাফেরদের)
সাথে প্রতারণা করা গ্রহণযোগ্য
নয়
এবং মিথ্যা বলাও গ্রহণযোগ্য নয়।
এটাই
হচ্ছে প্রথম সমস্যা।
পরবর্তী সমস্যা হল, আপনি যখন
একটি মিথ্যাকে যথেষ্ট পরিমাণ
দীর্ঘ সময়
ধরে পুনরাবৃত্তি করবেন তখন শেষ
পর্যন্ত
আপনি তাই বিশ্বাস করবেন।
যারা এইসব
দলগুলোকে ৮০’র দশক
থেকে দেখেছিলেন,
সময়ের সাথে এইসব দলগুলোর
যে কি পরিমাণ পরিবর্তন
ঘটেছে তা দেখে তাদের
কাছে এটা বিস্ময়কর লাগে। এখন
তারা বলছে এবং আমিও তাদের
বিশিষ্ট
সদস্যদের কাছ থেকে বহুবার
শুনেছি যে,
“এখন আমরা আসলেই গণতান্ত্রিক
সিস্টেমে বিশ্বাস করি।
আমরা বুলেট নয়
ব্যালটে বিশ্বাস করি।
এবং যদি ব্যালট
একটি ধর্মনিরপেক্ষ
অথবা কাফের
দলকে জয়ী করে তাহলে আমরা তাই
গ্রহণ
করবো!!”
মুসলমান হিসাবে আমাদের
ইসলামকে মানুষের
খামখেয়ালীর বিষয়
বানানো উচিত না যে,
যদি তারা এটি (অর্থাৎ ইসলাম /
ইসলামী শরীয়াহ) বেছে নেয়
আমরা তা বাস্তবায়ন করব, আর
যদি তা না করে তবে আমরা জনসাধারণের
পছন্দ মেনে নিব। আমাদের
অবস্থান এই যে,
আমরা পৃথিবীতে তলোয়ারের
ডগা দিয়ে আল্লাহর আইন
বাস্তবায়ন করব;
জনসাধারণ এটি পছন্দ করুক
বা না করুক।
আমরা শরীয়াহ
শাসনকে জনপ্রিয়তার
প্রতিযোগিতার বিষয়
বানাবো না।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বলেছেন-
“আমাকে তলোয়ার সমেত
পাঠানো হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত
না একমাত্র
আল্লাহ তা‘আলার
উপাসনা করা হয়।”
এই পথই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পথ,
যে পথ
আমাদের অনুসরণ করা উচিত।
চূড়ান্ত সমস্যা হল, মুসলমানদের
প্রক্রিয়া,
অনুপ্রবেশের প্রক্রিয়া নয়।
মুসলমানরা ওই
(গণতন্ত্র) সিস্টেমে অনুপ্রবেশের
চেষ্টা করে না এবং তার
মধ্যে থেকে কাজও করে না।
এটি আমাদের
পথ না। এটি ইহুদী ও
মোনাফেকদের পথ,
কিন্তু মুসলমানদের পথ না।
আমরা বন্ধু ও
শত্রুর সাথে সৎ ও অকপট(বা অক্রূর)।
আমরা আমাদের উদ্দেশ্য উন্মুক্ত
রাখি এবং আমরা প্রকাশ্যে আমাদের
দাওয়াহ ঘোষনা করি, “তোমার
জন্য
তোমার দ্বীন আর আমার জন্য
আমার
দ্বীন।” আমরা এই(গণতান্ত্রিক)
সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করতে চাই
না,হোক
তা আমেরিকায় অথবা কোন
একটি মুসলিম
দেশে। ইহুদীরাই একমাত্র সকল
সরকার
ব্যবস্থায়(যার অধীনেই
তারা ছিল)
অনুপ্রবেশ করেছে, হোক তা আল-
আন্দালুস
(ইসলামিক স্পেন) ও ওসমানীয়
খিলাফা অথবা আজকের
পশ্চিমা সরকারসমূহ। তাদের
(ইহুদীদের)
গোপন এজেন্ডা আছে, আমাদের
(মুসলমানদের) নাই।
ইহুদী ও তাদের দোসর
মোনাফিকরা রাসূলুল্লাহ
(সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর
সরকার
ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করার
চেষ্টা করেছিল
এবং কুরআন দ্বারা তাদের মুখোশ
উন্মোচিত হয়েছিল-
“এবং এক দল
কিতাবধারী (একে অপরকে)
বলাবলি করছিল, মুমিনদের
প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে,
দিনের
শুরুতে তা বিশ্বাস কর আর দিনের
শেষে তা অস্বীকার
(বা পরিত্যাগ) কর,
যাতে তারা(অর্থাৎ মুমিনরা)
ফিরে যায়
(অর্থাৎ, তাদের ধর্ম পরিত্যাগ
করে)"
সুতরাং তাদের পরিকল্পনা ছিল
যে,
তারা মুমিনে পরিণত
হবে এবং মুসলিমদের
মাঝে আসবে, শুধুমাত্র দিন
শেষে তা পরিত্যাগ করার জন্য।
আল্লাহ
মোনাফেকদের বিষয়েও
বলেছেন যে,
তাদের পরিকল্পনা ছিল যে,
তারা মুমিনদের
সাথে বসবে এবং যা শুনবে তা ইহুদীদের
নিকট পৌছে দেবে। সুতরাং,
যারা বলে আমাদের এই
(গণতান্ত্রিক)
সিস্টেমের
সাথে থেকে এটিকে পরিবর্তন
করা উচিত তারা মুসলমানদের পথ
অনুসরণ
করছে না এবং যদি চারিত্রিকভাবে তারা
মুসলিম হয়ে থাকে,
তবে তারা ব্যর্থ হবে।
কারণ অনুপ্রবেশ মুসলিম আচরণের
সাথে খাপ খায় না। কিন্তু
যদি তারা এই
(গণতান্ত্রিক)
সিস্টেমে অনুপ্রবেশ
করতে সক্ষম (বা সফল) হয়,
তাহলে তা প্রমান করে যে,
তাদের চরিত্র
ইহুদী বা মোনাফেকদের
চরিত্রে পরিনত
হয়েছে, মুসলমানদের চরিত্রে নয়।
একটি বিষয় এর সাথে সম্পর্কিত
আর
তা হচ্ছে,
যারা ইসলামী পরিবেশ
থেকে উঠে এসেছে এবং দীর্ঘ
সময়
ধরে বর্তমান রাজনৈতিক
সিস্টেমের
মধ্যে কাজ করেছে তারা শেষ
পর্যন্ত
রাজনীতিবিদে পরিণত
হয়েছে, যাদের
প্রক্রিয়ায় রয়েছে কূটনৈতিক,
রঙ-বদল,
বস্তুবাদী ও
কৌশলী ইত্যাদি শব্দের সকল
নেতিবাচক অর্থসমূহ।
তারা হয়তো ইসলামী আন্দোলনের
শক্ত
তারবিয়াহ কর্মসূচির
মধ্যে পালিত
হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন পর
রাজনৈতিক
অঙ্গনে তারাই
নেকড়েতে পরিণত হয়।
একটি বিষয় এর সাথে সম্পর্কিত
আর
তা হচ্ছে,
যারা ইসলামী পরিবেশ
থেকে উঠে এসেছে এবং দীর্ঘ
সময়
ধরে বর্তমান রাজনৈতিক
সিস্টেমের
মধ্যে কাজ করেছে তারা শেষ
পর্যন্ত
রাজনীতিবিদে পরিণত
হয়েছে, যাদের
প্রক্রিয়ায় রয়েছে কূটনৈতিক,
রঙ-বদল,
বস্তুবাদী ও
কৌশলী ইত্যাদি শব্দের সকল
নেতিবাচক অর্থসমূহ।
তারা হয়তো ইসলামী আন্দোলনের
শক্ত
তারবিয়াহ কর্মসূচির
মধ্যে পালিত
হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন পর
রাজনৈতিক
অঙ্গনে তারাই
নেকড়েতে পরিণত হয়েছে,
যাকে তারা পরিবর্তন
করতে চেয়েছিল।
আমি এইসব আমার নিজ চোখেই
দেখেছি যা আমার পরিচিত
মানুষদের
ক্ষেত্রে ঘটেছে এবং ইয়েমেন
ভিত্তিক
ইসলামী আন্দোলনের এক
নেতা বলেছেনঃ “আমরা তাদেরকে ভেড়া হিসাবে নেকড়েদের
জগতে পাঠাই একটি কঙ্কাল
সাবাড়
হিসাবে ফেরত পেতে।”
আপনি যদি জীবন্ত
উদাহরণ চান; এটি দেখতে যে,
সিস্টেমের
(গণতান্ত্রিক সিস্টেমের)
মধ্যে থেকে কাজ করলে তার
ফলাফল কি হয়,
তাহলে সুদান ও তুর্কির
চেয়ে বেশী দূর
তাকানোর দরকার নেই। দুই
দেশেরই
ক্ষমতাসীন দলগুলো ইসলামীক
আন্দোলন
দিয়ে শুরু করে শেষ পর্যন্ত অন্য
সবার
মতো পঁচা ও দূষিত
পরিবেশে গিয়ে শেষ
হয়েছে।
... ... ... .... ... ... ...
{বাংলাদেশে ইসলামিক
মুভমেন্টের জন্যও
এই কথাগুলো অত্যন্ত বাস্তব। অবশ্য
সেই
বাস্তবতা উপলব্ধি করার মত অন্তর
আপনার
থাকা চাই।
আমি মনে করি ইগুলো হচ্ছে একধরনের
কোদাল দিয়ে গর্ত খোড়ার মত।
আপনি গর্তে পড়ে গিয়ে যদি নিচের
দিকে যতই গর্ত খুড়তে থাকবেন
ততই আপনার
উদ্ধারের
সম্ভাবনা কমতে থাকবে।লাফাত, দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে?!
Vv

2.খিলাফাত, দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে?!


(4)
আসলে এই একটা ইস্যু নিয়েই
বর্তমানে ইসলামিস্টদের
মধ্যে উত্তপ্ত
বিতর্ক
ছড়িয়ে পড়ছে এবং একে অপরকে খারিজী কিংবা কুফফারদের
দালাল প্রভৃতি তকমাও
লাগানো হচ্ছে।
গণতন্ত্র কুফরি এর মূল কারণ ২টা-
1. গণতন্ত্রের মূল কথা 'সকল ক্ষমতার
মালিক
জনগণ' বা 'জনগণের সার্বভৌমত্ব'।
আর
এগুলো সুস্পষ্ট কুফরি কথা।
[{এতদিন
গণতন্ত্রকে যারা লঘুভাবে দেখার
পক্ষপাতী ছিলেন
তারা যুক্তি দেখাতে পারতেন,
জনগণের
সার্বভৌমত্বের অর্থ এটা নয়
যে জনগণ
আল্লাহর উপরেও ক্ষমতাবান।
বরং জনগণ
সরকারের উপরও ক্ষমতাবান এটাই
জনগণের
সার্বভৌমত্ব কথার Practical
meaning.
আসলে সার্বভৌমত্ব মানেই চরম
চূড়ান্ত
ক্ষমতা, কাজেই একই
সময়ে দুটি সার্বভৌমত্ব
থাকতে পারে না যদিও শ্রদ্ধেয়
শাহ আব্দুল
হান্নান সাহেব
এমনটি ভাবতে চেয়েছেন।
দ্বিতীয়ত যখন 'জনগণের
সার্বভৌমত্বের'
অজুহাত দেখিয়ে 'আল্লাহর
সার্বভৌমত্ব'
বাতিল করা হল তখন এ ধরনের
যুক্তি কতটুকু
Valid?? আমার মনে হয়
এটাকে যারা Validity
দিতে চান, তাদের
অবস্থা মুশরিকদের
চেয়েও জঘন্য।
মুশরিকরা আল্লাহতে বিশ্বাস
করে, সেই
সাথে অন্যান্য দেবদেবীতেও
বিশ্বাস
করে। এবং ক্ষমতার
ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর উপরই
বেশি ক্ষমতা আরোপ
করে সেটাতো এটলিস্ট ৫১%.
অন্যদিকে মুসলিমরা বলে আল্লাহর
কোন
শরীক নেই। সার্বভৌমত্বের
পুরোটাই তাঁর
অর্থাৎ ১০০%. আজকের এইসব
গণতন্ত্রের
ধারকদের অবস্থা তো এই
যে তারা জনগণের
সার্বভৌমত্বকে আল্লাহর
সার্বভৌমত্বের
উপরও স্থান
দিয়েছে( হতে পারে ৫৫% &
৪৫% ) যেটা মুশরিকরাও
মনে করে না। এরই
সাথে আরো একটা প্রশ্ন
করে রাখি যারা জনগণের
সার্বভৌমত্বের
অজুহাতে আল্লাহর
সার্বভৌমত্বকে বাতিল
করার দুঃসাহস
দেখিয়েছে তাদেরকে এখন
তাকফির
করতে বাধা কোথায়???}]
2. গণতন্ত্রের পার্লামেন্ট
সংখ্যাগরিষ্ঠতার
জোরে আল্লাহর আইন
বাতিল করে মানবরচিত আইন
কায়েম
করতে পারে। এটাও সুস্পষ্ট কুফরি।
[{এখানেও একদল পন্ডিত
এসে ইতিকাদী কুফরি নাকি আমালী কুফরি প্রভৃতি বিতর্ক
জুড়ে দিলেন। আমিও
বলি যে হ্যাঁ এই
বিতর্কের অবকাশ আছে। কিন্তু
আফসোস
এইসব পন্ডিতদের জন্য যারা শুধু Text

ভালো বোঝে কিন্তু বর্তমান
পরিস্থিতি চোখ
মেলে দেখতে চায় না।
যখন একদল লোক
প্রকাশ্যে জনগণের
সামনে "মধ্যযুগীয় আইন কখনই
বাস্তবায়ন করা যাবে না"
বলে ঘোষণা দেয়
তখন এই বিতর্কের অবকাশ
কোথায়???}]
অন্যদিকে গণতন্ত্রকে যারা জায়েয
প্রমাণ
করতে চান তারা Parliament এর
সাথে মজলিশে শূরা মিল
খোঁজার
চেষ্টা করেন। কিন্তু
তারা যেখানে বিভ্রান্ত হন
সেটা হল
তারা ভুলে যান এই মিলটা তখনই
সম্ভব
হবে যখন ইসলাম
বিজয়ী হবে বা সংবিধানকে ইসলামী ছাচে ঢেলে সাজানো হবে।
তার আগে নয়। মজলিশে শূরা আইন
তৈরি করতে পারে না, আইন
বাতিলও
করতে পারে না। তা শুধু
management
সংক্রান্ত বিষয়েই হতে পারে।
শূরার
সদস্যরা MPদের মত জনগণের
সার্বভৌমত্বকে তথা কুফরিকে স্বীকৃতি দিয়ে নির্বাচিত
হন না। বর্তমানে মুসলিম কাফির
ফাসিক
জাহিল সবাই MP
হতে পারে যেটা শূরায়
কখনই সম্ভব নয়। কাজেই প্রচলিত
গণতন্ত্রের
Parliament এর
সাথে মজলিশে শূরার
যে আকাশ পাতাল তফাত
আছে তা স্পষ্ট।
(3)
একদল লোক
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা
বা শরীআতী দন্ডবিধি শব্দগুলো শুনলে এতটাই
ভয় পান যে প্রচন্ড শীতের
রাতেও যেন দরদর
ঘামতে থাকেন। অন্যদল তার ঠিক
উল্টো।
ঠিকমত নামাযও পড়ে না, অথচ
ভাবতে থাকে শীঘ্রই
তারা রূপকথার
রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে,
যেখানে থাকবে না কোন দুঃখ,
কষ্ট
বা যাতনা, থাকবে শুধু
শান্তি আর শান্তি।
আগের
পর্বে আমি ইসলামী রাষ্ট্রের
আবশ্যিক
কাজগুলো নিয়ে বলেছি, তার
মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি হল
শরীআতের
দন্ডবিধি বাস্তবায়ন করা।
ইসলামী দন্ডবিধির
তিনটি ধারা আছে-
১. কিসাস ২. হুদুদ ৩. তাযীর
১. কিসাসঃ শাব্দিক অর্থ হল
অনুরূপ
করা বা সমান করা। শরীআতের
পরিভাষায়,
"হত্যা বা জখমের
ক্ষেত্রে অনুরূপতা নীতিভিত্তিক
ন্যায়বিচারকে কিসাস বলে"।
কাজেই
চোখের বদল চোখ, নাকের
বদলে নাক,
এবং হত্যার বদলা হত্যা এটাই হল
কিসাস।
(দেখুন সূরা মায়িদাঃ ৪৫-৪৮)
দুটো কারনে কিসাস প্রচলিত
ব্যবস্থার
চেয়ে প্রশংসার দাবীদার-
ক) অনুরূপতা নীতিভিত্তিক
ন্যায়বিচার।
অপরাধী বা ক্ষতিগ্রস্ত ধনী-
গরীব, রাজা-
প্রজা, স্বদেশী-বিদেশী,
মুসলিম-অমুসলিম
যাইহোক না কেন কিসাস
সকলের উপর
সমভাবে প্রযোজ্য।
খ)
এক্ষেত্রে দোষীকে রাষ্ট্রপ্রধানের
ক্ষমা করার অধিকার নেই। শুধু আহত
ব্যক্তি কিংবা নিহতের
অভিভাবক/
উত্তরাধিকারীই এই
ক্ষমা করতে পারেন।
ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের
ক্ষোভের কারন
থাকবে না।
গ) প্রতিহিংসার
চিরতরে নিবৃত্তি।
২. হুদুদঃ হুদুদ অর্থ নির্দষ্ট
বা সীমারেখা।
শরীআতে কিছু কিছু কাজের জন্য
নির্দিষ্ট
শাস্তির উল্লেখ আছে।
এগুলোকে হুদুদ বলে।
যথাঃ
1. অবিবাহিত
ব্যভিচারীকে ১০০টি বেত্রাঘাত
করা,
বিবাহিত ব্যভিচারীকে রজম
করে হত্যা করা। (সূরা নূর : ২) &
(বুখারী+মুসলিম)
2. কারোও উপর ব্যভিচারের
মিথ্যা অভিযোগ
আরোপকারীকে ৮০
টি বেত্রাঘাত করা। [সূরা নূর : ৪]
3. পেশাদার
চুরি ঠেকাতে চোরের হাত
কেটে দেওয়া।
[সূরা মায়িদা : ৩৮]
4. ডাকাতি, সন্ত্রাস
কিংবা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা/
বিদ্রোহ
সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা বা শূলে চড়ানো বা বিপরীত
দিক থেকে হাত
পা কেটে দেওয়া কিংবা দেশান্তরিত
করা। (সূরা মায়িদা : ৩৩)
5. মদ্যপানকারীকে ৪০/৮০
টি বেত্রাঘাত
করা। (বুখারী)
6. মুরতাদ অর্থাৎ ইসলাম
ত্যাগী ব্যক্তিকে ক্বতল করা।
(বুখারী)
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সালাত
পরিত্যাগকারীকেও অসংখ্য
আলিম মুরতাদ
গণ্য করেন। এদের মধ্যে মুহাম্মদ
বিন
উসাইমীন এবং ইউসুফ আল
কারজাভীও
আছেন।
*** নবী (সঃ) বলেন,
"একটি হদ
জারী করা দুনিয়াবাসীর জন্য
৪০
দিনের কল্যাণকর বৃষ্টির চাইতেও
কল্যাণকর।"
[নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ]
৩. তাযীরঃ কিসাস ও হুদুদ ব্যতিত
বাকী সব
অপরাধই তাযীরের মধ্যে পড়বে।
রাষ্ট্রের
অভিজ্ঞ আলিম
ফকীহরা বসে বিভিন্ন
অপরাধের
সংজ্ঞা এবং শাস্তি নির্ধারণ
করবেন এবং এটা পরিবর্তনযোগ্য।
তবে শর্ত
হল এই যে তা ১০ বত্রাঘাতের
বেশি হতে পারবে না। (বুখারী)
কিন্তু কিসাস হুদুদের
ক্ষেত্রে তাযীরের
মত এই শিথিলতার কোন অবকাশ
নেই।
হাদীসে আছে-
''কিয়ামতের দিন একজন
শাসককে আনা হবে৷ সে হদের
মধ্যে বেত্রাঘাতের সংখ্যা এক
ঘা কমিয়ে দিয়েছিল৷
জিজ্ঞেস করা হবে,
এ কাজ তুমি কেন করেছিলে?
জবাব দেবে,
আপনার বান্দাদের
প্রতি অনুগ্রহশীল হয়ে৷
আল্লাহ বলবেনঃ আচ্ছা,
তাহলে তাদের
ব্যাপারে তুমি আমার
চেয়ে বেশী অনুগ্রহশীল ছিলে?
তারপর হুকুম
হবে, নিয়ে যাও একে দোজখে৷৷
আর একজন
শাসককে আনা হবে৷
সে বেত্রাঘাতের
সংখ্যা ১টি বাড়িয়ে দিয়েছিল৷
জিজ্ঞেস
করা হবে, তুমি এ কাজ
করেছিলে কেন?
সে জবাব দেবে,
যাতে লোকেরা আপনার
নাফরমানি করা থেকে বিরত
থাকে৷
আল্লাহ বলবেনঃ আচ্ছা, তাদের
ব্যাপারে তুমি তাহলে আমার
চেয়ে বেশী বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান
ছিলে?
তারপর হুকুম হবে, নিয়ে যাও
একে দোজখে৷
(তাফসীরে কবীর, ৬ষ্ঠ খন্ড, ২২৫
পৃষ্ঠা)
NOW TRY TO THINK, WHAT WILL
HAPPEN TO
THE PRESENT NON ISLAMIC GOVT. &
THEIR
HELPERS
 SUPPORTERS....


খিলাফাত, দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে?!!!


(2)
ইসলামী রাষ্ট্র
ব্যবস্থা বা খিলাফতী রাষ্ট
ব্যবস্থা বলতে Exactly কি বুঝায়??
মূলত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার
মূলভিত্তি হলতিনটি-
১.তাওহীদ ২.রিসালাহ
৩.খিলাফাহ
এই তিনটি পরিভাষাই অত্যন্ত
ব্যাপক ও
বহুমাত্রিক। তবে আমাদের
আলোচনা যেহেতু
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা
নিয়ে তাই আমরা শুধু এর
সাথে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট
অংশটুকুই
আলোচনা করবোঃ
১.তাওহীদঃ সার্বভৌমত্ব
অর্থাৎ চরম
চূড়ান্ত ক্ষমতা / কর্তৃত্ব শুধু মাত্র
আল্লাহর।
হুকুম আহকাম আইন শরীআত শুধুমাত্র
আল্লাহই জারি করতে পারেন।
কোন
রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ইসলামিক
বলে দাবী করতে হলে প্রথমেই
রাষ্ট্রীয়
ব্যবস্থার
সর্বোচ্চ
স্বীকৃতিতে (বর্তমানে এরূপ
ব্যবস্থাকে সংবিধান বলা হয়)
আল্লাহর
সার্বভৌমত্বের
ঘোষণা দিতে হবে।
প্রচলিত ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ
জনগণ
কিংবা তাদের
ভোটে নির্বাচিত
সদস্যদেরকে এই সার্বভৌমত্ব
প্রদান
করা হয়। কাজেই এটা হল কুরআনের
পরিভাষায় 'আরবাবাম মিন
দুনিল্লাহ'
বা তাদেরকে আল্লাহর
পরিবর্তে রব
বানিয়ে নেওয়া যা সুস্পষ্টভাবে শিরক
এবং কুফরি। অনেকে জনগণের
সার্বভৌমত্ব
কথাটাকে হালকাভাবে দেখতে চান,
আমিও একসময় চাইতাম। আমার ভুল
ভাঙে যখন কথিত এই জনগণের
সার্বভৌমত্বকে আল্লাহর
সার্বভৌমত্বের
উপর প্রাধান্য দেওয়া হল এবং এ
অজুহাত
দিয়েই 'আল্লাহর সার্বভৌমত্ব'
বিশিষ্ট
একটা দলের নিবন্ধনকে বাতিল
করা হল।
২.রিসালাহঃ আল্লাহর
রাসূলের
সঃ মাধ্যমে আমরা দুটো জিনিস
পেয়েছি তথা কুরআন ও সুন্নাহ।
রাষ্ট্রের
যাবতীয় আইন কানুন,
কার্যপ্রণালী কুরআন
সুন্নাহ অনুযায়ী হবে এটাই
রিসালাহর
দাবী। কাজেই
ইসলামী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ
মূলনীতিতে এটা অবশ্যই
থাকতে হবে যে,
"কুরআন সুন্নাহ সর্বোচ্চ আইন।
এবং এর
বিপরীত সমস্ত নিয়ম বাতিল
বলে গণ্য হবে।"
৩. খিলাফাহঃ খলীফা অর্থ
প্রতিনিধি বা স্থলাভিষিক্ত।
এটা এমন
একটা ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান
আল্লাহর
তাওহীদকে স্বীকৃতি দিবেন,
এবং তাঁর খলীফা হয়ে তাঁর
প্রদত্ত
রিসালাহর অনুসরন করবেন। অর্থাৎ
কুফরি ব্যবস্থার মত
নিজেরা নিজেরাই
বিধান প্রবর্তন করবেন না,
সার্বভৌমত্ব
দাবীও করবেন না বরং আল্লাহর
সার্বভৌমত্ব মেনে, আল্লাহ
যে বিধান
জারী করেছেন
এবং যেগুলো রিসালাহর
মাধ্যমে পাওয়া গেছে তিনি আল্লাহর
প্রতিনিধি হিসেবে শুধু
সেগুলো বাস্তবায়ন
করবেন। আল্লাহর বিধান দুই
ধরনের-
১) আল্লাহই বিধান জারী করেন
এবং তিনিই সেগুলো বাস্তবায়ন
করেন
যেমন চন্দ্র, সূর্যের উদয়, অস্ত
এবং আবর্তন।
২) আল্লাহ বিধান জারী করেন
কিন্তু
তিনি বাস্তবায়ন করেন না।
যেমন
মদ্যপানের শাস্তি, ব্যভিচারের
শাস্তি।
কেউ মদপান করলে আল্লাহ
যমীনে এসে বেত্রাঘাত করবেন
না, কেউ
ব্যভিচার করলেও আল্লাহ
নিজে এসে রজম
করবেন না। এগুলো বাস্তবায়নের
দায়িত্ব
মানুষের। এ জাতীয় বিধানের
নাম
শরীআত। আল্লাহর
দেওয়া শরীআত
বাস্তবায়নের এই পদ্ধতিই
খিলাফাহ।
কাজেই ইসলামী রাষ্ট্রকে অবশ্যই
এই
শরীআত (কিসাস, হুদুদ, তাযীর)
বাস্তবায়িত
করতে হবে।
ইসলামী রাষ্ট্রের কিছু অবশ্যকীয়
কাজ-
১. রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ
তত্ত্ববধানে নামায
কায়েম
করা এবং বেনামাযীদের
শাস্তি দেওয়া।
২. রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যাকাত
আদায় ও বন্টন
করা।
৩. সৎকাজের আদেশ প্রদান
এবং অসৎকাজ
(যেমন অশ্লীলতা, ঘুষ, দুর্নীতি,
অনাচার,
অবিচার প্রভৃতি) প্রতিহত করা।
৪. ইসলাম প্রচার প্রসারের সবরকম
ব্যবস্থা করা।
৫. যমীনে শির্ক, বিদআত ও
ফিৎনা-ফাসাদ
বন্ধের ব্যবস্থা করা।
৬. সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক
ব্যবস্থা বন্ধ
করা।
৭. কুফফারদেরকে বন্ধু
এবং অভিভাবক
হিসেবে গ্রহণ না করা। এ
ব্যাপারে অসংখ্য আয়াত আছে।
অথচ
আপনি অবশ্যই এরকম রাষ্ট্র
দেখে থাকবেন,
যারা হাদ্দ কায়েম
রেখেছে কিন্তু
কুফফারদের দ্বারা যখন মুসলিম
ভূমি দখল
হয়েছে কিংবা মুসলিমরা নির্যাতিত
হয়েছে তখনও
তারা নির্লজ্জভাবে কুফফারদের
পক্ষ
নিয়েছে।
৮.
দ্বীনকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী করার
জন্য
কুফফারদের সাথে জিহাদ করা।
তাদের
তিনটি পথের যেকোন
একটি বাতলে দেওয়া-
হয় ইসলাম নয় জিযিয়া নতুবা যুদ্ধ।
এগুলো যদিও শরীআতের ভিতরেই
পড়ে।
তারপরেও অনেকে ভুলে যায়
বলে আলাদাভাবে উল্লেখ
করা হল। বিশেষ
করে যে রাষ্ট্র নামায কায়েম
করে না এবং বেনামাযীদের
শাস্তি দেয়
না, সেটাকে আমরা কিছুতেই
ইসলামী রাষ্ট্র বলবো না। কারন-
ক) আল্লাহ সূরা হাজ্জের ৪১
নং আয়াতে আল্লাহ, নামায
কায়েমকে কর্তৃত্ব পাওয়ার
খলীফার ১ম
দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ
করেছেন।
খ) বুখারী মুসলিমসহ অসংখ্য সহীহ
গ্রন্থে এ
মর্মে হাদীস রয়েছে যে, যতক্ষণ
পর্যন্ত
শাসক নামায কায়েম
রাখবে ততক্ষণ পর্যন্ত
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
কিংবা বিদ্রোহ
করা যাবে না।খিলাফাত, দাওয়াহ, ন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে??

(১) দ্বীন
কিভাবে বিজয়ী হবে ?
দ্বীন কিভাবে বিজয়ী হবে এ
আলোচনার
পূর্বে চলুন জেনে নেওয়া যাক
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরঃ
1. দ্বীন ইসলাম কি বিজয়ী হবে??
2. আচ্ছা বিজয়ী হলে কতটুকু
বিজয়ী হবে??
3. ঈসা (আঃ) আসার পূর্বেই
কি পুনরায়
খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত হবে??
আমার মনে যে ইসলাম
যে বিজয়ী হবে তা নিয়ে কারোরই
সন্দেহ
নেই, এমনকি যে ছেলেটা পশ্চিম
দিকে আছারও খায় না, তারও
নেই।
এবং এটা হচ্ছে আল্লাহর কৃত
ওয়াদা যে-
"ওয়া আ'দাল্লাহুল্লায
ীনা আমানু মিনকুম
ওয়া আমিলুছ
ছলিহাতি লাইয়াছতাখলিফান্
নাহুম ফিল
আরদ্ব" অর্থাৎ আল্লাহ ঈমানদার
সৎকর্মশীলদের
সাথে ওয়াদা করেছেন
যে তিনি তাদেরকে পৃথিবীর
কর্তৃত্ব দান
করবেন"। (সূরা নূর : ৫৫)। কাজেই
যে মনে করে যে পৃথিবীতে ইসলামের
কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে না,
সে মূলত মুমিনই
নয়।
কিন্তু ২য় প্রশ্নটার ব্যাপারে খুব
কম লোকই
এ সম্পর্কে পরিষ্কার
আইডিয়া রাখে। কেউ
মনে করে তাদের দল থেকে দুই
একজন
মন্ত্রী হলে কিংবা তাদের দল
ক্ষমতায়
গেলেই বুঝি দ্বীন
পূর্ণরূপে বিজয়ী। কিন্তু
এর সঠিক উত্তরটি জানা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ।
কেননা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরই
বলে দিবে কোন
পথে আমরা অগ্রসর হবো?
কোন পথে আছে বিজয়?
শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক,
আল্লাহর রাসূল
(সঃ)
কিংবা খুলাফায়ে রাশেদীন
কি দ্বীনকে পূর্নাঙ্গরূপে বিজয়ী করতে
পেরেছিলেন?? উত্তর হচ্ছে না,
তারা ঐ
ওয়াদার মাত্র কিয়দংশ
বাস্তবায়িত
করেছিলেন।
[আলবানী, সিলসিলাতুল
আহাদীছ আছ-
ছহীহা]
[১]
আয়েশা (রাঃ) বলেন,
আমি রাসূল (সঃ)
কে বলতে শুনেছি লাত,
উযযা মূর্তিদ্বয়ের
পূজা করা বন্ধ
না হওয়া পর্যন্ত দিন ও রাত শেষ
হবে না।
আয়েশা (রাঃ) বলেন তখন
আমি বললাম,
হে আল্লাহর রাসূল (সঃ), আমার
ধারণা ছিলো যখন
আল্লাহ-"তিনিই তাঁর
রাসূলকে প্রেরণ করেছেন
হেদায়াত
ও সত্য দ্বীনসহ সকল দ্বীনের উপর
বিজয়ী করার জন্য যদিও
মুশরিকরা তা অপছন্দ করে"
আয়াতটি অবতীর্ণ করেন, তখন
মূর্তিপূজার
দিন শেষ হয়ে গেছে (অর্থাৎ
ইসলাম
পূর্ণভাবে বিজয়ী হয়ে গেছে)।
উত্তরে রাসূল (সঃ) বলেলেন,
ভবিষ্যতে এটা বাস্তবায়িত
হবে যতটুকু
আল্লাহ ইচ্ছা করেন।
[সহীহ মুসলিম]
[মিশকাত শরীফ]
[২]
রাসূল (সঃ) আরো বলেন, "আল্লাহ
তাআলা ভূপৃষ্ঠকে আমার জন্য
সংকুচিত
করলেন। অদূর
ভবিষ্যতে আমার উম্মতের রাজত্ব
সেই
পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, যে পর্যন্ত
যমীন
আমার জন্য সংকুচিত হয়েছিল।"
[সহীহ মুসলিম]
[মিশকাত শরীফ]
[৩]
মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রাঃ)
বলেন,
তিনি রাসূল (সঃ)
কে বলতে শুনেছেন যে,
ভূপৃষ্ঠে এমন কোন মাটির ঘর
বা তাবু
থাকবে না যেখানে আল্লাহ
ইসলাম
পৌছে দিবেন না- সম্মানীর
ঘরে সম্মানীর
সাথে এবং অসম্মানীর
ঘরে অসম্মানের সাথে। অতঃপর
আল্লাহ
যাদেরকে সম্মানিত করবেন,
তাদেরকে স্বেচ্ছায় ইসলাম
গ্রহণের যোগ্য
করে দিবেন। আর
যাদেরকে তিনি অসম্মানিত
করবেন
তারা জিযিয়া দিয়ে এ
দ্বীনের
বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য হবে।
আমি বললাম,
তাহলে তো দ্বীন
পূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য
হয়ে যাবে।
[মুসনাদ ইবনে আহমাদ]
[মিশকাত শরীফ]
তাহলে চিন্তা করে দেখুন
ইসলাম
কতটা বিস্তৃত হবে যে এর প্রভাব
বড় বড়
অট্টালিকা থেকে শুরু
করে প্রতিটি মাটির
ঘর বা তাবুতেও বিস্তৃত হবে।
অর্থাৎ বড় বড়
নগরী থেকে রিমোট
এরিয়াতে ইসলামের
প্রভাব বিস্তৃত হবে।
এবং এটা এতটা প্রভাবশালী হবে যে প্রত্যেক
তাবুর মালিককেও ইসলাম গ্রহণ
বা জিযিয়া দিয়ে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য
করা হবে। কাজেই
যারা মনে করে কতিপয়
মুসলিম অধ্যুষিত দেশে শরীআত
কায়েম
হলেই ইসলাম
পূর্ণতা পাবে তাদের
ধারণা নিঃসন্দেহে ভুল।
আরো একটি সুপরিচিত হাদীস
হলঃ
[৪]
"তোমাদের দ্বীনের শুরু নবুওয়াত
ও রহমত এর
মাধ্যমে এবং তা ততদিন
থাকবে যতদিন
আল্লাহ চাইবেন। তারপর আল্লাহ
তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর
আসবে নবুওয়াতের
আদলে খেলাফত। তাও ততদিন
থাকবে যতদিন আল্লাহ চাইবেন।
তারপর
মহান আল্লাহ
তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর
আসবে দুষ্ট রাজতন্ত্রের যমানা।
আল্লাহ
যতদিন ইচ্ছা তা রাখবেন, তারপর
আল্লাহ
তাও উঠিয়ে নিবেন। এরপর
আসবে স্বৈরতন্ত্রের
যমানা এবং তা ততদিন
থাকবে যতদিন
আল্লাহ চাইবেন। তারপর আল্লাহ
তাও
উঠিয়ে নিবেন। এরপর আবার
আসবে নবুওয়াতের
আদলে খিলাফত।
[মুসনাদে আহমাদ]
[সিলসিলা ছহীহা]
এ হাদীস
থেকে সামগ্রিকভাবে ৫টি পর্যায়ের
কথা বলা হয়েছে-
১. নবুওয়াত ২. খিলাফাত ৩. দুষ্ট
রাজতন্ত্র ৪.
যুলুমতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্র ৫. পুনরায়
খিলাফাত।
এটা সুস্পষ্ট যে বর্তমানে ৪
নং পর্যায়
অর্থাৎ যুলুমতন্ত্র চলছে। আর এর
পরেই আবার
আসছে খিলাফাত!!
এখন প্রশ্ন হল পুনরায় কখন
খিলাফাত
প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ইসলাম
রিমোট কর্ণার
পর্যন্ত তার প্রভাব বিস্তার
করবে??
সেটা কি ইমাম মাহদী ও
ঈসা (আঃ)
আগমনের পরে নাকি আগেই??
প্রশ্নটার উত্তর
দেওয়া একটি কষ্টকর। তাও
চেষ্টা করা যাক-
[৫]
"....... ঈসা (আঃ) পুনরাগমনের পর
ক্রুশ
ভেঙে ফেলবেন, শূকর নিধন
করবেন,
জিযিয়া কর রহিত করবেন...."
[আবূ দাউদ, ইবনু হিব্বান, আহমাদ]
তারমানে ঈসা (আঃ) আগমনের
পর আর
জিযিয়া ব্যবস্থা থাকবে না।
তিনি লোকদেরকে মাত্র
দুটি পথ
বাতলে দিবেন হয় যুদ্ধ নয় ইসলাম।
সঙ্গত
কারনেই প্রশ্ন জাগে [৩]
নং হাদীসের
ব্যাপক বিস্তৃত প্রভাব
কিভাবে প্রতিষ্ঠিত
হবে এবং কে এই জিযিয়া আদায়
করবে??
এখন [৩], [৪] এবং [৫] নং হাদীসের
সমন্বয়
করে IN MY OPINION (I COULD BE
WRONG!)
ইমাম মাহদী এবং ঈসা (আঃ)
আগমনের
পূর্বেই একটা খিলাফত
ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত
হবে।
প্রশ্ন জাগতে পারে ভিন্ন
মুসলিম
দেশে ভিন্ন ভিন্ন খিলাফাত
প্রতিষ্ঠিত
হতে পারে কি??
এর উত্তর হচ্ছে না। রাসূল (সঃ)
বলেছেন-
"যদি দুইজন খলীফার বাইয়্যাত
নেওয়া হয়,
তাহলে পরে যার বাইয়্যাত
নেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করো/
তাকে হত্যা করো।"
[মুসলিম]
যাইহোক একসময় (হোক
আগে কিংবা পরে)
খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত
হবে তাতে কোন
সন্দেহ নেই। আর এটা শুধু মুসলিম
সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে নয়,
বরং সমগ্র
পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে তার
কর্তৃত্ব
প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। কিন্তু
প্রশ্ন
হচ্ছে কিভাবে?? দাওয়াহ,
গণতন্ত্র, নুসরাহ,
জিহাদ- কিভাবে?? আর এই
প্রশ্নের উত্তর
জানার জন্যেই আপনাকে আমার
সাথে আরো কিছুটা পথ
পাড়ি দিতে হবে।