বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৫

4. খিলাফাত, দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ- কিভাবে?!


(8)
গণতন্ত্র
দিয়ে কি মনযিলে মকসুদে পৌঁছা যাবে...??
যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নিই
যে শরীআ
গণতন্ত্রকে মৃদু সম্মতি দেয়,
তাহলেই
কি আমরা সেই
মনজিলে মকসুদে পৌছঁতে পারবো?
বিশেষ
করে আলজেরিয়া ও মিশরের
ঘটনার পর এ
বিষয়টি ইসলামপন্থীদের
ভাবিয়ে তুলছে!
১.
কুফরকে মিটিয়ে দিয়ে তাওহীদ
প্রতিষ্ঠার ইসলামী রাষ্ট্রের
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল নামায
কায়েম
করা। এবং এ কাজ
না করলে হাদীসে শাসকের
বিরুদ্ধে অস্ত্র
ধরার অনুমতি আছে।
নামায কায়েমের
ব্যাপারে রাষ্ট্রের
কর্তব্য কি? এ ব্যাপারে ইমাম আবু
হানীফার মত হল
বেনামাযীকে তওবা না করা পর্যন্ত
জেলে বন্দী রাখা হবে আর
অন্যান্য
আলেমদের মত হল তওবার আহ্বান
জানানো হবে অন্যথায়
তাকে হত্যা করা হবে। এখন
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার
সবচেয়ে vital
একটি element এ গণতন্ত্র কতটুকু সফল
হবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক
জরিপে দেখা গেছে দেশের
মাত্র ২% মানুষ
৫ ওয়াক্ত নামায পড়ে। এখন
আপনি কি করে আশা করেন
যে তারা নামায কায়েমের এ
ধরনের
বিধানের পক্ষে ভোট দিবে?
অর্থাৎ তাদের
ভোটে ইসলামী বিধান
বাস্তবায়িত
হবে এটা একটা আকাশ কুসুম
কল্পনা।
ইনফ্যাক্ট গণতন্ত্রবাদী কোন
একটি ইসলামি দল
যদি ভাগ্যক্রমে ক্ষমতায়
আসেও, তবুও তারা কখনই নামায
কায়েম
করবে না। কেননা এতে পরের
নির্বাচনে গদি হারানোর ভয়
আছে!!
(এ বিষয়টা আরো একটু পরিষ্কার
করিঃ যদি কোন রাষ্ট্রের
শতভাগ মুসলিম
নামায পড়ে তবুও আমরা ঐ
রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্র
বলবো না যদি বেনামাযীর
শাস্তির
বিধান না থাকে। কিন্তু
যে রাষ্ট্রে বেনামাযীর
শাস্তির বিধান
আছে, চাই সে রাষ্ট্রের সবাই
নামায নাও
পড়ুক তাও সেটা ইসলামিক রাষ্ট্র।
বস্তুত
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্ক সম্যক
আইডিয়া না থাকার কারনেই এই
বিভ্রান্তগুলো ছড়াচ্ছে। কেউ
কেউ
মনে করে তাদের দল ১৫১ টা সিট
পেলেই
রাষ্ট্র ইসলামী হয়ে যাবে।)
২. ইসলাম নামক মুক্তির বিহঙ্গ আজ
জাতীয়তাবাদের লোহার
খাঁচায় বন্দী।
গণতন্ত্র কি পারবে এ লোহার
খাঁচাকে ভেঙে ফেলতে???
৩. কোন ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম
থেকে ইহুদী বা খ্রিষ্টান
হয়ে গেলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব
হল
তাকে ক্বতল করা। আপনার
কি মনে হয়
আমেরিকা আপনাকে এত
সহজে এই আইন
বাস্তবায়ন করতে দিবে??
৪. ইসলামী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হল
তা ইহুদি খ্রিষ্টানদের কাছ
থেকে জিযিয়া আদায় করবে।
যারা কারনে অকারনে মার্কিন
দূতাবাসে ধন্যা দেয়,
তারা এটা করার
সাহস দেখাবে বলে কি আপনার
মনে হয়??
কুফফারদের ফর্মুলায় তাদের
স্বার্থবিরোধী আইনের স্বপ্ন
দেখা কি নিছক বিভ্রান্তি নয়??
৫. ইসলামী রাষ্ট্র ইসলাম
বিরোধী সকল
বাতিল দলকে নিষিদ্ধ করবে,
চাই
তারা বামপন্থী হোক, সেক্যুলার
হোক,
কিংবা জাতীয়তাবাদী হোক।
তাদেরকে তওবা করার আহ্বান
জানানো হবে, অন্যথায়
তাদেরকে মুরতাদ
ঘোষণা করে হত্যা করা হবে।
বহুদলীয়
গণতন্ত্রকে স্বীকার
করে নিয়ে এ কাজ
করার সুযোগ কোথায়?? জনগণের
ম্যান্ডেট
নিয়ে ক্ষমতায় এসে তাদের
প্রিয় নাস্তিক
বুদ্ধিজীবী কবি সাহিত্যিককে হত্যা করার
নৈতিক শক্তি ইসলামি দলটি কই
পাবে?
অন্যান্য দলসমূহ নিষিদ্ধ
করতে গেলে কার্যত
গণতন্ত্রকে কবর
চাপা দিতে হবে। যে জনগণের
কাছ
থেকে ভোটভিক্ষার
মাধ্যমে দলটি ক্ষমতায়
এসেছে তারা এটা মানবে কেন??
আর
পশ্চিমারাই আঙুল চুষবে কেন??
৬. মিশর কিংবা আলজেরিয়ার
মত
পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য
দরকার
অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ।
গণতন্ত্রবাদীদের
এসব পরিস্থিত ট্যাকল দেওয়ার
প্রস্তুতি কতটুকু?? আসলে গণতন্ত্র হল
পশ্চিমাদের তৈরি করা ফাঁদ।
যখন
তারা দেখবে একটি ইসলামী দল
ক্ষমতায়
চলে এসেছে তখন
মিথ্যা অভিযোগে তাদের উপর
সন্ত্রাসী হামলা চালানো হবে এবং তখনও
গণতন্ত্র রক্ষার দোহাই
দেয়া হবে!!
৭. ১ম
পর্বে আমরা দেখেছি পৃথিবীতে ব্যাপক
বিস্তৃত একটি খিলাফতের
প্রতিশ্রুতি রাসূল
সঃ দিয়েছেন।
এবং এটা প্রতিটা মাটির
ঘর বা তাবু পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
তাদেরকে ইসলাম বা জিযিয়ার
আহ্বান
জানাবে। কথিত ভোটাভোটির
মাধ্যমে পৃথিবীতে এত বড়
পরিবর্তন
আসবে বলে বিশ্বাস
করাটা কি বোকামী নয়?
৮. আমেরিকার র্যান্ড
ইন্টস্টিটিউশন
মডারেট মুসলিমদের
যে চারটি বৈশিষ্ট্য
বর্ণণা করেছে এবং যেগুলো তারা
আমাদের উপর ইম্পোস করতে চায়,
তার
দুটি হল-
1. Accepting Democracy as understood in
the
liberal western traditions (not in islamic
perspective)
2. Acceptance of non sectarian source of
law.
Those who want laws from a particular
scriptures
are extremist!!!
বিস্তারিত ইমাম আনোয়ার আল
আওলাকির
'The Battles of Hearts & Minds'
লেকচারটা শুনুন। যারা নিয়মিত
আমেরিকার কাছে নিজেদের
Moderate
প্রমাণের জন্য ধন্যা দেয়,
কিভাবে তারা আমেরিকার
দেওয়া Prescription এ
ইসলামী রাস্ট্র
প্রতিষ্ঠা করবে??
৯. প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হবার
সবচেয়ে সহজ কৌশল হল Dividation
Rule.
মোটাদাগে দেখলে এদেশের
অল্পকিছু
মানুষ ইসলামপন্থী। অতঃপর
বহুদলীয়
গণতন্ত্রের ফর্মুলা এই অল্প সংখ্যক
ভোট
ভাগ হবে এত্ত এত্ত ইসলামী দলের
মাঝে।
একদলের শাইখুল হাদীস
দাড়াবে,
অপরদলে দাড়িবিহীন শিক্ষিত
তরুণ
দাড়াবে। অতঃপর সমর্থকদের
মাঝে শুরু
হবে নোংরা কাঁদা ছোড়াছোড়ির
খেলা,
গীবত, অপবাদ, আর পরনিন্দার
তুবড়ি ছোড়া।
দূর থেকে সেক্যুলার
বামপন্থীরা মজা লুটবে।
১০. শেষকথা একটা প্রকৃত
ইসলামী রাষ্ট্র
বিনা আক্রমণে বিশ্বব্যাপী জিহাদ
পরিচালনা করবে দ্বীনকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী করার
জন্যে। কাজেই কুফফাররা কখনই
নিছক
টিপসই দিয়ে এরূপ রাষ্ট্র
হতে দিবে না।
কখনই না।
আর যদি হুদুদই বাস্তবায়ন
করা না যায়,
তাহলে কিসের ইসলামিক
রাষ্ট্র?? কিসের
জন্য এত সংগ্রাম, এত আন্দোলন??n

(7)
মানবীয় আইনের বেহাল
দশা এবং গণতান্ত্রিক দাওয়াহর
মৌলিক
গলদঃ
[১]
১৯২৬ সালে মার্কিন
পার্লামেন্ট মদ
নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ১৯৩৩
সালে পুনরায়
তা বৈধ করে। এ প্রেক্ষাপটেই
উস্তাদ
মওদুদী (রহঃ) লিখেছেন
'মানবীয় আইন
বনাম আল্লাহর আইন' নামক
সুবিখ্যাত
প্রবন্ধটি। জনগণের হাতে আইন
প্রনয়ণের ম্যান্ডেট দিয়ে আবার
নৈতিকতার
বুলি ছাড়তে গেলে যে কতটা নাজেহাল
হতে হয় এ ঘটনা তার বাস্তব
সাক্ষী। অথচ এ
আইন প্রনয়ণের পূর্বে শুধু প্রচার
কার্যেই ব্যয়
হয়েছিল সাড়ে ৬ কোটি ডলার,
লিখা হয়েছিল প্রায় ৯০০
কোটি পৃষ্ঠা, আইন
বাস্তবায়ন করতে খরচ হয়েছিল ৬৫
কোটি পাউন্ড। কিন্তু আফসোস
মি.
রুজভেল্ট নির্বাচিত হওয়ার পরই এ
আইনের
সমাধি রচিত হয়। মদের
বিপক্ষে এত
চিন্তা গবেষণা, এত প্রচার
প্রচারণা, এত
আয়োজন, এত প্রচেষ্টা এত কিছু সব
ব্যর্থ
প্রমাণিত হয়।
এ হচ্ছে গণতন্ত্রের স্বরূপ যার
মাধ্যমে আল্লাহর আইন
বাস্তবায়নের
দুঃস্বপ্ন দেখছেন কেউ কেউ।
অন্যদিকে আজ থেকে ১৪০০ বছর
পূর্বে ফিরে যান। শুধুমাত্র
কুরআনের আয়াত
দিয়েই মদ নিষিদ্ধের বিধান
শতভাগ
সফলতা লাভ করেছিল, দরকার
পরে নি শত
শত পুস্তকের, কিংবা পুলিশ
প্রশাসনের।
[২]
আল্লাহর রাসূলের (সঃ) দাওয়াত
বনাম
গণতন্ত্রবাদীদের দাওয়াতঃ
আল্লাহর রাসূল (সঃ)
মক্কী জীবনে মানুষকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'
এর মূলনীতিকে লোকদের
অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত
করে দিয়েছিলেন।
তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন
আল্লাহ যা দেন সেটাই আইন,
এটা বিনা প্রশ্ন
মেনে নেওয়াটা ঈমান আর
না মানাটা কুফরি।
তাদেরকে দ্ব্যর্থহীন
ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল
U HAVE NO
CHOICE. U HAVE NO MANDATE...!!
অন্যদিকে আজকের
গণতন্ত্রবাদীরা মানুষের
দ্বারে দ্বারে ঘুরছে,
তাদেরকে দাওয়াত
দিচ্ছে U HAVE RIGHT TO
CHOOSE...
U HAVE MANDATE...
হে জনগণ তোমরাই সব।
তোমরা চাইলে শাহভাগীদের
ভোট
দিয়ে সমকাম বৈধ করতে পারো,
আবার
চাইলে ইসলামপন্থীদের ভোট
দিয়ে মদ
নিষিদ্ধ করতে পারো।
তোমরা যেটা চাইবে সেটাই
হবে।
দয়া করে ভোটটা আমাদের দাও।
আল্লাহর রাসূল সঃ মদ নিষিদ্বের
পূর্বে সাহাবীদের
নিয়ে মিটিং ডাকেন
নি, বলেন
নি যে তোমরা অধিকাংশ মদের
পক্ষে থাকলে মদ জায়েয আর
না থাকলে মদ
নাজায়েয।
অথচ আজকের
গণতন্ত্রবাদীরা সংখ্যাধিক্যের
কুফরি সূত্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
এই
স্বীকৃতিকে কেউ অস্বীকার
করতে পারবে না। কারন তাদের
শরীআ
কায়েমের Procedure ই
হলো পার্লামেন্টে নিজ দলের
MP
সংখ্যা বৃদ্বি করা, যাতে বিল
উত্থাপনের
সময় তারা সংখ্যাধিক্যের
জোরে আইন
চেন্জ করতে পারে। আর এই
কারনেই
তারা ভোটারদের
দ্বারে দ্বারে ঘুরে,
ভোটভিক্ষা চায়।
তারা বুঝতে পারে না যে জনগণকে মাথায়
উঠার অধিকার স্বীকার
করে নিয়ে যদি বলা হয় মাথায়
ওঠা শোভা পায়
না তাহলে জনগণ কেয়ার
করবে না। বিনা টিকেটে রেল
ভ্রমণের
অধিকার স্বীকার
করে যদি পাবলিককে টিকেট
কাটার
অনুরোধ করা হয় তা কতটুকু কার্যকর
হবে???
রাসূল (সঃ) এর দাওয়াতের
সাথে আজকের
গণতন্ত্রবাদীদের দাওয়াতের এই
মৌলিক
পার্থক্যের কারনে গণতান্ত্রিক
পদ্ধতিতে কখনই শরীআ বাস্তবায়ন
করা যাবে না। যদি কদাচিৎ
যায়ও তাহলেও
তা মার্কিন পার্লামেন্টের মদ
নিষিদ্ধের
মতই তামাশায় পরিণত হবে।
[গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন
পরিবর্তনের
সিস্টেম হল বিল উত্থাপন ও
সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফলো করা। এখন
আপনি যদি এই প্রক্রিয়ায় বিল
উত্থাপন ও
সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে মদ
নিষিদ্ধ
করেন, তাও তা হবে একপ্রকার
মানবরচিত
আইন। কারন এটার breeding process
এটাকে তাই বলছে।
আমরা বলবো এটা এক
প্রকার মানবরচিত আইন কিন্তু
ঘটনাক্রমে এটা শরীআ আইনের
সাথে মিলে গেছে।
ব্যভিচারের
ফলে যে বাচ্চা হবে তাকে তো জারজ
সন্তানই বলা হবে, যদিও
ঘটা করে গরু
জাবাই দিয়ে তার
আকীকা করা হোক
কিংবা জব্বরসই একখান
আরবী নাম
রাখা হোক।]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন