(4)
আসলে এই একটা ইস্যু নিয়েই
বর্তমানে ইসলামিস্টদের
মধ্যে উত্তপ্ত
বিতর্ক
ছড়িয়ে পড়ছে এবং একে অপরকে খারিজী কিংবা কুফফারদের
দালাল প্রভৃতি তকমাও
লাগানো হচ্ছে।
গণতন্ত্র কুফরি এর মূল কারণ ২টা-
1. গণতন্ত্রের মূল কথা 'সকল ক্ষমতার
মালিক
জনগণ' বা 'জনগণের সার্বভৌমত্ব'।
আর
এগুলো সুস্পষ্ট কুফরি কথা।
[{এতদিন
গণতন্ত্রকে যারা লঘুভাবে দেখার
পক্ষপাতী ছিলেন
তারা যুক্তি দেখাতে পারতেন,
জনগণের
সার্বভৌমত্বের অর্থ এটা নয়
যে জনগণ
আল্লাহর উপরেও ক্ষমতাবান।
বরং জনগণ
সরকারের উপরও ক্ষমতাবান এটাই
জনগণের
সার্বভৌমত্ব কথার Practical
meaning.
আসলে সার্বভৌমত্ব মানেই চরম
চূড়ান্ত
ক্ষমতা, কাজেই একই
সময়ে দুটি সার্বভৌমত্ব
থাকতে পারে না যদিও শ্রদ্ধেয়
শাহ আব্দুল
হান্নান সাহেব
এমনটি ভাবতে চেয়েছেন।
দ্বিতীয়ত যখন 'জনগণের
সার্বভৌমত্বের'
অজুহাত দেখিয়ে 'আল্লাহর
সার্বভৌমত্ব'
বাতিল করা হল তখন এ ধরনের
যুক্তি কতটুকু
Valid?? আমার মনে হয়
এটাকে যারা Validity
দিতে চান, তাদের
অবস্থা মুশরিকদের
চেয়েও জঘন্য।
মুশরিকরা আল্লাহতে বিশ্বাস
করে, সেই
সাথে অন্যান্য দেবদেবীতেও
বিশ্বাস
করে। এবং ক্ষমতার
ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর উপরই
বেশি ক্ষমতা আরোপ
করে সেটাতো এটলিস্ট ৫১%.
অন্যদিকে মুসলিমরা বলে আল্লাহর
কোন
শরীক নেই। সার্বভৌমত্বের
পুরোটাই তাঁর
অর্থাৎ ১০০%. আজকের এইসব
গণতন্ত্রের
ধারকদের অবস্থা তো এই
যে তারা জনগণের
সার্বভৌমত্বকে আল্লাহর
সার্বভৌমত্বের
উপরও স্থান
দিয়েছে( হতে পারে ৫৫% &
৪৫% ) যেটা মুশরিকরাও
মনে করে না। এরই
সাথে আরো একটা প্রশ্ন
করে রাখি যারা জনগণের
সার্বভৌমত্বের
অজুহাতে আল্লাহর
সার্বভৌমত্বকে বাতিল
করার দুঃসাহস
দেখিয়েছে তাদেরকে এখন
তাকফির
করতে বাধা কোথায়???}]
2. গণতন্ত্রের পার্লামেন্ট
সংখ্যাগরিষ্ঠতার
জোরে আল্লাহর আইন
বাতিল করে মানবরচিত আইন
কায়েম
করতে পারে। এটাও সুস্পষ্ট কুফরি।
[{এখানেও একদল পন্ডিত
এসে ইতিকাদী কুফরি নাকি আমালী কুফরি প্রভৃতি বিতর্ক
জুড়ে দিলেন। আমিও
বলি যে হ্যাঁ এই
বিতর্কের অবকাশ আছে। কিন্তু
আফসোস
এইসব পন্ডিতদের জন্য যারা শুধু Text
ই
ভালো বোঝে কিন্তু বর্তমান
পরিস্থিতি চোখ
মেলে দেখতে চায় না।
যখন একদল লোক
প্রকাশ্যে জনগণের
সামনে "মধ্যযুগীয় আইন কখনই
বাস্তবায়ন করা যাবে না"
বলে ঘোষণা দেয়
তখন এই বিতর্কের অবকাশ
কোথায়???}]
অন্যদিকে গণতন্ত্রকে যারা জায়েয
প্রমাণ
করতে চান তারা Parliament এর
সাথে মজলিশে শূরা মিল
খোঁজার
চেষ্টা করেন। কিন্তু
তারা যেখানে বিভ্রান্ত হন
সেটা হল
তারা ভুলে যান এই মিলটা তখনই
সম্ভব
হবে যখন ইসলাম
বিজয়ী হবে বা সংবিধানকে ইসলামী ছাচে ঢেলে সাজানো হবে।
তার আগে নয়। মজলিশে শূরা আইন
তৈরি করতে পারে না, আইন
বাতিলও
করতে পারে না। তা শুধু
management
সংক্রান্ত বিষয়েই হতে পারে।
শূরার
সদস্যরা MPদের মত জনগণের
সার্বভৌমত্বকে তথা কুফরিকে স্বীকৃতি দিয়ে নির্বাচিত
হন না। বর্তমানে মুসলিম কাফির
ফাসিক
জাহিল সবাই MP
হতে পারে যেটা শূরায়
কখনই সম্ভব নয়। কাজেই প্রচলিত
গণতন্ত্রের
Parliament এর
সাথে মজলিশে শূরার
যে আকাশ পাতাল তফাত
আছে তা স্পষ্ট।
(3)
একদল লোক
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা
বা শরীআতী দন্ডবিধি শব্দগুলো শুনলে এতটাই
ভয় পান যে প্রচন্ড শীতের
রাতেও যেন দরদর
ঘামতে থাকেন। অন্যদল তার ঠিক
উল্টো।
ঠিকমত নামাযও পড়ে না, অথচ
ভাবতে থাকে শীঘ্রই
তারা রূপকথার
রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে,
যেখানে থাকবে না কোন দুঃখ,
কষ্ট
বা যাতনা, থাকবে শুধু
শান্তি আর শান্তি।
আগের
পর্বে আমি ইসলামী রাষ্ট্রের
আবশ্যিক
কাজগুলো নিয়ে বলেছি, তার
মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি হল
শরীআতের
দন্ডবিধি বাস্তবায়ন করা।
ইসলামী দন্ডবিধির
তিনটি ধারা আছে-
১. কিসাস ২. হুদুদ ৩. তাযীর
১. কিসাসঃ শাব্দিক অর্থ হল
অনুরূপ
করা বা সমান করা। শরীআতের
পরিভাষায়,
"হত্যা বা জখমের
ক্ষেত্রে অনুরূপতা নীতিভিত্তিক
ন্যায়বিচারকে কিসাস বলে"।
কাজেই
চোখের বদল চোখ, নাকের
বদলে নাক,
এবং হত্যার বদলা হত্যা এটাই হল
কিসাস।
(দেখুন সূরা মায়িদাঃ ৪৫-৪৮)
দুটো কারনে কিসাস প্রচলিত
ব্যবস্থার
চেয়ে প্রশংসার দাবীদার-
ক) অনুরূপতা নীতিভিত্তিক
ন্যায়বিচার।
অপরাধী বা ক্ষতিগ্রস্ত ধনী-
গরীব, রাজা-
প্রজা, স্বদেশী-বিদেশী,
মুসলিম-অমুসলিম
যাইহোক না কেন কিসাস
সকলের উপর
সমভাবে প্রযোজ্য।
খ)
এক্ষেত্রে দোষীকে রাষ্ট্রপ্রধানের
ক্ষমা করার অধিকার নেই। শুধু আহত
ব্যক্তি কিংবা নিহতের
অভিভাবক/
উত্তরাধিকারীই এই
ক্ষমা করতে পারেন।
ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের
ক্ষোভের কারন
থাকবে না।
গ) প্রতিহিংসার
চিরতরে নিবৃত্তি।
২. হুদুদঃ হুদুদ অর্থ নির্দষ্ট
বা সীমারেখা।
শরীআতে কিছু কিছু কাজের জন্য
নির্দিষ্ট
শাস্তির উল্লেখ আছে।
এগুলোকে হুদুদ বলে।
যথাঃ
1. অবিবাহিত
ব্যভিচারীকে ১০০টি বেত্রাঘাত
করা,
বিবাহিত ব্যভিচারীকে রজম
করে হত্যা করা। (সূরা নূর : ২) &
(বুখারী+মুসলিম)
2. কারোও উপর ব্যভিচারের
মিথ্যা অভিযোগ
আরোপকারীকে ৮০
টি বেত্রাঘাত করা। [সূরা নূর : ৪]
3. পেশাদার
চুরি ঠেকাতে চোরের হাত
কেটে দেওয়া।
[সূরা মায়িদা : ৩৮]
4. ডাকাতি, সন্ত্রাস
কিংবা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা/
বিদ্রোহ
সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা বা শূলে চড়ানো বা বিপরীত
দিক থেকে হাত
পা কেটে দেওয়া কিংবা দেশান্তরিত
করা। (সূরা মায়িদা : ৩৩)
5. মদ্যপানকারীকে ৪০/৮০
টি বেত্রাঘাত
করা। (বুখারী)
6. মুরতাদ অর্থাৎ ইসলাম
ত্যাগী ব্যক্তিকে ক্বতল করা।
(বুখারী)
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সালাত
পরিত্যাগকারীকেও অসংখ্য
আলিম মুরতাদ
গণ্য করেন। এদের মধ্যে মুহাম্মদ
বিন
উসাইমীন এবং ইউসুফ আল
কারজাভীও
আছেন।
*** নবী (সঃ) বলেন,
"একটি হদ
জারী করা দুনিয়াবাসীর জন্য
৪০
দিনের কল্যাণকর বৃষ্টির চাইতেও
কল্যাণকর।"
[নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ]
৩. তাযীরঃ কিসাস ও হুদুদ ব্যতিত
বাকী সব
অপরাধই তাযীরের মধ্যে পড়বে।
রাষ্ট্রের
অভিজ্ঞ আলিম
ফকীহরা বসে বিভিন্ন
অপরাধের
সংজ্ঞা এবং শাস্তি নির্ধারণ
করবেন এবং এটা পরিবর্তনযোগ্য।
তবে শর্ত
হল এই যে তা ১০ বত্রাঘাতের
বেশি হতে পারবে না। (বুখারী)
কিন্তু কিসাস হুদুদের
ক্ষেত্রে তাযীরের
মত এই শিথিলতার কোন অবকাশ
নেই।
হাদীসে আছে-
''কিয়ামতের দিন একজন
শাসককে আনা হবে৷ সে হদের
মধ্যে বেত্রাঘাতের সংখ্যা এক
ঘা কমিয়ে দিয়েছিল৷
জিজ্ঞেস করা হবে,
এ কাজ তুমি কেন করেছিলে?
জবাব দেবে,
আপনার বান্দাদের
প্রতি অনুগ্রহশীল হয়ে৷
আল্লাহ বলবেনঃ আচ্ছা,
তাহলে তাদের
ব্যাপারে তুমি আমার
চেয়ে বেশী অনুগ্রহশীল ছিলে?
তারপর হুকুম
হবে, নিয়ে যাও একে দোজখে৷৷
আর একজন
শাসককে আনা হবে৷
সে বেত্রাঘাতের
সংখ্যা ১টি বাড়িয়ে দিয়েছিল৷
জিজ্ঞেস
করা হবে, তুমি এ কাজ
করেছিলে কেন?
সে জবাব দেবে,
যাতে লোকেরা আপনার
নাফরমানি করা থেকে বিরত
থাকে৷
আল্লাহ বলবেনঃ আচ্ছা, তাদের
ব্যাপারে তুমি তাহলে আমার
চেয়ে বেশী বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান
ছিলে?
তারপর হুকুম হবে, নিয়ে যাও
একে দোজখে৷
(তাফসীরে কবীর, ৬ষ্ঠ খন্ড, ২২৫
পৃষ্ঠা)
NOW TRY TO THINK, WHAT WILL
HAPPEN TO
THE PRESENT NON ISLAMIC GOVT. &
THEIR
HELPERS
SUPPORTERS....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন